গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নয়নপুর-বরমী সড়কের সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশের অভিনব উপায় বেছে নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রায় দুই বছর ধরে কাজ স্থবির থাকায় সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে নয়নপুর এলাকার সড়কের একটি অংশে ধানের চারা রোপণ করে তারা প্রতিবাদ জানান।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জিওবি মেইনটেন্যান্স প্রকল্প-৩-এর আওতায় নয়নপুর বাজার থেকে সিসিডিবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রায় ৪ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটির কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাম্মী এন্টারপ্রাইজ।
২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে কাজ শুরু হলেও নয়নপুর অংশে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক খুঁড়ে ইটের খোয়া ফেলার পর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইটের খোয়া সরে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।
সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এ সড়ক ব্যবহার করে ময়মনসিংহের গফরগাঁও এবং শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ, বরমী ও তেলিহাটী ইউনিয়নের হাজারো মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন।
এছাড়া স্থানীয় শিল্পকারখানার শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রাকিব মিয়া ও অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া বলেন, বৃষ্টির পর সড়কের গর্তগুলো পানিতে ঢেকে যাওয়ায় চলাচল আরও বিপজ্জনক হয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন ধরে সড়কের এমন অবস্থার কারণে পরিবহন চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণেই এই ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাম্মী এন্টারপ্রাইজ-এর মালিক জিয়াউর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ হাসান জানান, জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঠিকাদারকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু কাজ পুনরায় শুরু না করায় তাঁর বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ এবং কার্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে নতুন দরপত্রের মাধ্যমে দ্রুত সড়কের সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
এসআর