[email protected] সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

মায়েদের স্বাবলম্বী করতেই ফ্যামিলি কার্ড: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ আগষ্ট ২০২৬ ৫:২০ পিএম

সংগৃহীত ফাইল

পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতেই ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারীরাও যেন সংসারের দায়িত্ব নিতে পারেন, সন্তানদের পড়াশোনা ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পারেন এবং একটি স্বনির্ভর পরিবার গড়ে তুলতে পারেন—এ লক্ষ্যেই মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হচ্ছে।

 

রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এক জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর চট্টগ্রামে এটি তার প্রথম সফর। এ সময় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারের সদস্যদের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন তিনি।

 

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি দেশের মায়েদের সহযোগিতা এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি জানান, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়, যা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট থেকে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। চলতি বছর দেশের প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরের মধ্যে বাঁশখালী উপজেলার ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। এ কার্যক্রম আগামী চার বছর অব্যাহত থাকবে। ধাপে ধাপে আরও বিপুলসংখ্যক নারী এ সুবিধার আওতায় আসবেন। পাশাপাশি কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষক কার্ডও চালু করা হয়েছে।

 

বিএনপির শক্তির মূল উৎস জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও সমর্থনই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। জনগণ পাশে থাকলে সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

দেশের অর্থনৈতিক উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিপুল জনগোষ্ঠীকে কর্মক্ষম জনশক্তিতে পরিণত করতে হবে। কৃষিতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে।

 

সাম্প্রতিক বন্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছিল। এতে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে বাঁশখালীতে ১০০ পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অসচ্ছল নারীদের খাদ্যসহায়তাও দেওয়া হয়েছে।

 

তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে বর্তমান সরকার দায়িত্ব পেয়েছে। ফলে দেশের মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। নারীদের সহায়তা, শিশুদের শিক্ষার সুযোগ, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং তরুণদের কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়েও সরকার কাজ করবে।

 

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। উপকূলের বিশাল সমুদ্রের পাশে সমাবেশস্থলে জড়ো হন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে সেখানে উপস্থিত হন।

 

বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে অসচ্ছল এবং সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারকে নতুন দুর্যোগসহনশীল ঘর দেওয়া হয়েছে। ঘর হারানো জেলে সম্প্রদায় ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে এ সহায়তায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। বাহারছড়ার জেলেপাড়ার সন্তানহারা ও বন্যায় ঘর হারানো এক বিধবা নারীর হাতে প্রতীকীভাবে প্রথম ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়।

 

স্থানীয় বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন বলেন, উপকূলীয় হওয়ায় তাদের এলাকায় প্রায়ই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থাকে। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ঘরের চাবি পাওয়ার ঘটনাকে তিনি এলাকার মানুষের জন্য স্বস্তির বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এখনো পর্যটকদের কাছে তেমন পরিচিত হয়ে ওঠেনি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে সৈকতটির পর্যটন সম্ভাবনা নতুন করে গুরুত্ব পাবে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং উপকূলীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।

 

পরে মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি। এরপর হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ৩০ পরিবারের মধ্যে সহায়তা বিতরণের কর্মসূচি রয়েছে।

সফরের শেষপর্বে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলে উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সব কর্মসূচি শেষ করে রাতেই চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার।

এসআর

সম্পর্কিত খবর