[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম, বাংলাদেশে এসে নেত্রকোনার তরুণীকে বিয়ে করলেন চীনা যুবক

নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬ ৬:৪৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্কের পরিণতি হিসেবে চীনের এক যুবক বাংলাদেশে এসে নেত্রকোনার এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর মুসলিম রীতিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কনে নাজমিন আক্তার লিজা (২০) নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

তার বাবা মো. নাজিম উদ্দিন স্থানীয়ভাবে ফার্নিচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

পরিবারের আদি বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ভাটগাঁও গ্রামে হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা মোহনগঞ্জ পৌরসভার দৌলতপুর এলাকায় বসবাস করছেন।

বর ওয়্যাং সুলিন (৩০) চীনের লুবেই প্রদেশের লুরাং শহরের বাসিন্দা। তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে সেখানে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে লিজা ও ওয়্যাং সুলিনের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হলে উভয় পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়। দুই পরিবারের সম্মতির পর বিয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

প্রেমের টানে গত ১৮ জুলাই বাংলাদেশে আসেন ওয়্যাং সুলিন। ঢাকায় পৌঁছানোর পর লিজার পরিবারের সদস্যরা তাকে মোহনগঞ্জে নিয়ে যান।

পরে ২১ জুলাই তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে মো. নুর উদ্দিন রাখেন। এরপর অ্যাফিডেভিটসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ও ধর্মীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

নবদম্পতির জন্য আগামী শুক্রবার (৩১ জুলাই) মোহনগঞ্জে পারিবারিকভাবে বিয়ের সংবর্ধনা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এ উপলক্ষে বাড়িতে মঞ্চ নির্মাণসহ অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানোর কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

কনের বাবা মো. নাজিম উদ্দিন জানান, আন্তর্জাতিক বিয়ের ক্ষেত্রে প্রতারণার নানা ঘটনা সামনে আসায় তারা শুরু থেকেই সতর্ক ছিলেন।

তিনি বলেন, ছেলের পরিবার সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি ঢাকায় চীনা দূতাবাস থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হয়েছে।

সবকিছু সন্তোষজনক পাওয়ার পরই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ওয়্যাং সুলিন চীনে ফিরে গিয়ে প্রয়োজনীয় ভিসা ও অন্যান্য কাগজপত্র সম্পন্ন করবেন। এরপর লিজাকে চীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

চীন থেকে আসা এই বরকে একনজর দেখতে প্রতিদিনই কনের বাড়িতে স্থানীয়দের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অনেকে নবদম্পতির সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শেয়ার করছেন। বিষয়টি নিয়ে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, শুরুতে বিদেশি নাগরিককে ঘিরে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের পর বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে জেনে সবাই আশ্বস্ত হয়েছেন।

তিনি নবদম্পতির সুখী ও সুন্দর দাম্পত্য জীবনের শুভকামনা জানান।

এসআর

সম্পর্কিত খবর