অমাবস্যাকে কেন্দ্র করে জোয়ারের প্রভাবে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে।
বর্তমানে বরিশাল বিভাগের অন্তত আটটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
এতে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠির বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বুধবার (১৫ জুলাই) পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি বিজ্ঞান বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী তাইজুল ইসলাম জানান, গত দুই দিনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে জোয়ারের সময় কীর্তনখোলা, সুগন্ধা, বিষখালী, তেঁতুলিয়া, মেঘনা-সুরমা, বলেশ্বর, শ্রীমন্ত ও কঁচা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। অমাবস্যার প্রভাব আরও কয়েকদিন থাকায় পানি আরও বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বরিশাল অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি না হলেও অমাবস্যা ও দমকা বাতাসের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামী দুই দিনের মধ্যে আরও কয়েকটি নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আমতলীর বুড়িশ্বর-পায়রা, বাকেরগঞ্জের তেঁতুলিয়া, উজিরপুরের সন্ধ্যা, গৌরনদীর টরকী এবং কাঠিপাড়ার লোহালিয়া নদীর পানিও বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।
বুধবার বিকেল পর্যন্ত কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার প্রায় ১২ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। এছাড়া ঝালকাঠির বিষখালী-সুগন্ধা, ভোলার তেঁতুলিয়া, দৌলতখানের মেঘনা-সুরমা, তজুমদ্দিনের সুরমা-মেঘনা, পিরোজপুরের বলেশ্বর, বরগুনার বিষখালী ও পটুয়াখালীর পায়রা-শ্রীমন্ত নদীর পানিও নির্ধারিত বিপৎসীমার চেয়ে বেশি উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি লঘুচাপের প্রভাবে এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত এবং নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মিলন হাওলাদার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নদীর পানি বড় ধরনের বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা কম। তবে লঘুচাপটি শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং উপকূলের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা বা প্লাবনের ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
এসআর