অভাবের তাড়নায় একসময় অন্যের বাড়িতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন নীলফামারীর
সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী ডাঙ্গাপাড়ার বাসিন্দা হাজিমুল ইসলাম। তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মাঝেও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রবল ইচ্ছাশক্তি থেকে তিনি স্মার্টফোনে ইউটিউব দেখে বাঁশ দিয়ে শৌখিন পণ্য তৈরির কৌশল রপ্ত করেন। প্রাথমিকভাবে বাড়ির পাশের বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কেটে তৈরি করেন কয়েকটি পানির মগ, যার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করতেই অভাবনীয় সাড়া পান।
এই সাফল্যকে পুঁজি করে তিনি গড়ে তোলেন ‘আরিফুল হস্ত শিল্প’ নামের এক কারখানা। আজ তার কারখানায় তৈরি বাঁশ ও বেতের নান্দনিক পানির মগ, ট্রে, ল্যাম্পশেড, ফুলদানি, শোপিস ও সোফা সেটসহ বিভিন্ন শৌখিন সামগ্রী দেশের পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজারের পর্যটন এলাকার চাহিদা মিটিয়ে বায়ারের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে ইউরোপের বাজারে।
হাজিমুল ইসলাম কেবল নিজেকেই স্বাবলম্বী করেননি, বরং এলাকার ১৫ জন কর্মহীন নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন। কারখানার শ্রমিক মনোয়ারা বেগম, হেলাল উদ্দিন ও ববিতা রানি রায় জানান, প্লাস্টিকের ভিড়ে সনাতন বাঁশশিল্পের ব্যবসা হারিয়ে বা অভাবের সংসারে ঘরে বসে সময় কাটানোর পর, এই কারখানায় কাজ পেয়ে তারা এখন সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করছেন এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাচ্ছেন। বর্তমানে এই উদ্যোগ থেকে হাজিমুলের মাসিক আয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা।
নিজের এই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে এবং দক্ষ জনবল তৈরি করতে সরকারি প্রশিক্ষণ ও সুদমুক্ত ঋণের সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে নীলফামারী বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপ-ব্যবস্থাপক নূরেল হক জানান, ইতোমধ্যে এই উদ্যোক্তাকে বিনাসুদে এক লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে এবং আগামীতে কারখানার শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে।
এসআর