[email protected] শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ, পানিবন্দি ৪.৫ লাখ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬ ৯:৩৯ এএম

সংগৃহীত ছবি

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।

 জেলার বিভিন্ন উপজেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও সরকারি দপ্তর। বন্যাকবলিত দুর্গত এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়েছে।

​সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলায়। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছে এই অঞ্চল। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এমনকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, থানা ও পৌরসভা কার্যালয়েও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং ডলু নদীর তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

​এদিকে বাঁশখালী ও চন্দনাইশ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাও পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢলের কারণে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে পড়েছে। চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জেলা শহরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অন্যদিকে চন্দনাইশের দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ অংশে পানি উঠে যাওয়ায় দূরপাল্লার যানবাহন ধীরগতিতে চলছে, যার ফলে মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর