ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
শনিবার (৫ জুলাই) প্রকাশিত সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান নদ-নদীগুলো এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও চট্টগ্রাম বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের ত্রিপুরা ও আসাম অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হওয়ায় উজানের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিন চট্টগ্রাম, সিলেট এবং ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী তিন দিনে দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ অবস্থায় বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি বাড়ছে। সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী ও কংস নদীর পানি কিছুটা কমলেও যাদুকাটা ও ভূগাই নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগামী ৭২ ঘণ্টায় এসব নদীতেও আবার পানি বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে রংপুর অঞ্চলের তিস্তা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে। এছাড়া কক্সবাজারে ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের উজান এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা বাংলাদেশের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে।
সকাল ৯টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের কোনো নদী এখনও বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে বৃষ্টিপাত ও উজানের পানির প্রবাহ অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বাপাউবো।
এসআর