[email protected] মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

ভালো নেই চাঁচড়ার ট্রাক্টর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ

যশোর জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২৬ ৯:০২ পিএম

সংগৃহীত ছবি

একসময় যশোরের চাঁচড়া এলাকার ট্রাক্টর পার্টস ও মেরামতের ওয়ার্কশপগুলো ছিল বেশ কর্মচঞ্চল।

 প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাক্টর আসত মেরামত ও যন্ত্রাংশ সংগ্রহের জন্য। তবে গত প্রায় দুই বছর ধরে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সড়কে ট্রাক্টর চলাচলে বাধার কারণে এখন তাদের ব্যবসায় চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে।

চাঁচড়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তার প্রতিষ্ঠানে রোটাভেটর, কাল্টিভেটর, ট্রলি ও অন্যান্য কৃষিযন্ত্রের যন্ত্রাংশ বিক্রি এবং মেরামতের কাজ করা হয়।

কিন্তু বিভিন্ন স্থানে ট্রাক্টর চলাচলে পুলিশের বাধার কারণে আগের মতো গ্রাহক আসছেন না। ফলে বিক্রি ও কাজ—দুই-ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়ি যশোরের চাঁচড়া মধ্যপাড়ায়। কিশোর বয়স থেকেই তিনি এই পেশার সঙ্গে যুক্ত।

প্রায় ১৬ বছর ধরে ট্রাক্টর পার্টস ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

তার ভাষ্য, একসময় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য ট্রাক্টর চাঁচড়ায় আসত। এখন সেই সংখ্যা অনেক কমে যাওয়ায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, তার চার সদস্যের পরিবার রয়েছে এবং ব্যবসায়িক ঋণের চাপও আছে। প্রতিষ্ঠানে পাঁচজন কর্মচারী কাজ করেন।

ব্যবসা না থাকলেও প্রতি সপ্তাহে তাদের বেতন পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা এখন বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

যশোর শহরের চাঁচড়া মোড় এলাকায় গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে অবস্থিত এই ওয়ার্কশপে আগে বরিশাল, নাভারণ, বেনাপোল, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাক্টর আসত। বর্তমানে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সড়কে ট্রাক্টর চলাচলে বাধা থাকায় দূরের গ্রাহকেরা আর আসতে পারছেন না।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, এই সংকট শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়। চাঁচড়া এলাকার প্রায় ২০০ ট্রাক্টর পার্টস ব্যবসায়ী একই সমস্যায় রয়েছেন।

কাজ কমে যাওয়ায় অনেকেই কর্মচারীদের বেতন দেওয়া, দোকান পরিচালনা এবং দেনা পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

চাঁচড়া ট্রাক্টর পার্টস ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি বাদল শেখ বলেন, ট্রাক্টর পার্টসের বাজার বর্তমানে বড় ধরনের মন্দার মধ্যে রয়েছে।

বাইরের জেলা থেকে ট্রাক্টর আসা কমে যাওয়ায় অধিকাংশ ব্যবসায়ী আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিলে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা কিছুটা স্বস্তি ফিরে পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর