টানা বর্ষণ এবং ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় ও টিলা ধসের সম্ভাবনাও বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অবিরাম বৃষ্টিতে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর পর্যন্ত সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১২.৩৪ মিটার, যা বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি।
সিলেট পয়েন্টসহ কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ, শেওলা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও শেরপুর এবং সারী-গোয়াইন অববাহিকার বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রেও পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিলেটে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও বিভাগজুড়ে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে আয়ের ওপর প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন পেশাজীবীর। রিকশাচালক, দিনমজুর ও ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, বৃষ্টির কারণে কাজ ও ক্রেতা—দুটোই কমে গেছে। ফলে দৈনন্দিন খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে নিচু এলাকার বাসিন্দারা নদীর পানি বৃদ্ধির খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন বলেন, আগামী তিন থেকে চার দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি চট্টগ্রামের মতো ভয়াবহ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য ও প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানান।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, জেলার সব নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে কুশিয়ারার অমলশীদ ও ফেঞ্চুগঞ্জ এবং সুরমার কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এখন পর্যন্ত কোথাও প্লাবনের খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উজানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও বড় ধরনের বন্যার কোনো পূর্বাভাস নেই। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কিছু স্থানে পানি সাময়িকভাবে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, তবে বৃষ্টি কমে গেলে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এসআর