[email protected] শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে বন্যা, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬ ৯:১৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি

হবিগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

 

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতের দিকে সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই বন্যার পানি আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক বাড়িতে কোমরসমান পানি ওঠায় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়।

 

এর আগে একই দিন বিকেলে বানিয়াচং উপজেলার রাধাপুর এলাকাতেও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়ে। পরিস্থিতির অবনতি হলে অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে আত্মীয়দের বাড়ি কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যায়।

 

শুক্রবার সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ জি কে গউছ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার কথা জানান।

 

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় প্রায় ৬ হাজার ৪৪৫ জন পানিবন্দি রয়েছেন এবং প্রায় ২৮ হাজার ১৪০টি পরিবার ক্ষতির মুখে পড়েছে। দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৩০০ মানুষ অবস্থান করছেন।

 

ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ জানিয়েছে, দুর্গতদের মধ্যে ইতোমধ্যে এক হাজার ৫২টি শুকনা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা, ১০০ মেট্রিক টন জিআর চাল এবং ১ হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় অতিরিক্ত চাল, নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রীও পাঠানো হয়েছে।

 

বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয়ভাবে মাইকিং করে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

 

এদিকে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় মনু নদীর বাঁধ ভেঙে চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সেখানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন এবং স্রোতের টানে একজন বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মনু নদীর পানি চাঁদনীঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে থাকলেও বাড়তির দিকে রয়েছে।

 

এ ছাড়া সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় সুরমা নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে সুরমাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর