ফরিদপুরে এখন পাট কাটার ভরা মৌসুম।
জেলার বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের সুগন্ধী গ্রামে মাঠজুড়ে চলছে পাট কাটার ব্যস্ততা।
অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার পাটের ফলন ভালো হওয়ায় আশাবাদী কৃষকরা। এখন তাদের একমাত্র প্রত্যাশা—ন্যায্য বাজারমূল্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকে গ্রামের কৃষকরা মাঠে নেমে পাট কাটার কাজে ব্যস্ত।
কোথাও কাঁচি দিয়ে গোড়া থেকে পাট কাটা হচ্ছে, কোথাও আবার কাটা পাট সারিবদ্ধভাবে রাখা হচ্ছে।
প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট উচ্চতার পাটগাছে ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ মাঠ। তীব্র রোদ কিংবা বৃষ্টির মধ্যেও বিরামহীনভাবে চলছে তাদের কাজ।
স্থানীয় কৃষক মো. সবুর খা বলেন, সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ বছর পাটের গাছ লম্বা ও মোটা হয়েছে।
তিনি আশা করছেন, প্রতি বিঘা জমি থেকে ১২ থেকে ১৪ মণ পর্যন্ত আঁশ পাওয়া যাবে। তবে ভালো ফলনের সুফল পেতে বাজারে পাটের ন্যায্য দাম নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পাট কাটার পর শুরু হবে জাগ দেওয়ার কাজ। কৃষকরা কাটা পাট আঁটি বেঁধে পুকুর, বিল বা নদীর পানিতে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিন ডুবিয়ে রাখেন।
এরপর পচে গেলে আঁশ আলাদা করে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে রোদে শুকানো হয়। এই আঁশ থেকেই পরে বস্তা, দড়িসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি হয় এবং এর একটি অংশ বিদেশেও রপ্তানি করা হয়।
দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, সুগন্ধী গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস পাট চাষ।
তাঁর মতে, জাগ দেওয়ার জন্য খাল-বিল সংস্কার এবং কৃষকের উৎপাদিত পাটের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলের কৃষকরা আরও লাভবান হবেন।
কৃষকদের দাবি, পাটের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা, মানসম্মত বীজ ও প্রয়োজনীয় সার সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা। তাদের ভাষ্য, শ্রমসাপেক্ষ হলেও পাট চাষই বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস।
একসময় দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে পরিচিত "সোনালি আঁশ" এখনও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বোয়ালমারীর সুগন্ধী গ্রামের পাটক্ষেত সেই ঐতিহ্যেরই আরেকটি জীবন্ত উদাহরণ।
এসআর