সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের উপকূল রক্ষা বাঁধে অবৈধভাবে বসানো ১২টি ‘নাইনটি’ পাইপ অপসারণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি রোধে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনকের নেতৃত্বে গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া, চকবারা, চাঁদনীমুখা, ৯ নম্বর সোরা এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকার ১৫ নম্বর পোল্ডারের বেড়িবাঁধ থেকে এসব পাইপ অপসারণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিংড়ি ও অন্যান্য মাছের ঘেরে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করানোর জন্য কিছু ব্যক্তি সম্প্রতি বাঁধের ব্লক সরিয়ে কিংবা বাঁধে ছিদ্র করে পাইপ স্থাপন করেছিলেন। এতে উপকূল রক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ার পাশাপাশি জলোচ্ছ্বাস বা অতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
অভিযানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম পাটোয়ারী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদার এবং পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বলেন, গাবুরা ঘিরে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় বাঁধ কেটে পাইপ বসানো প্রকল্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আগে থেকেই সংশ্লিষ্টদের এসব পাইপ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশ অমান্য করায় প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে পাইপগুলো অপসারণ করা হয়েছে।
গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি. এম. মাসুদুল আলম বলেন, উপকূল রক্ষা বাঁধে স্থাপিত সব অবৈধ পাইপ পর্যায়ক্রমে অপসারণ করা হবে। ভবিষ্যতে কেউ একই ধরনের কাজ করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেন, গাবুরায় চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এ সময় কেউ বাঁধ কেটে বা ক্ষতিগ্রস্ত করে অবৈধভাবে পাইপ স্থাপন করলে তা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। বাঁধের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসআর