ঠাকুরগাঁওয়ে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া খুলনার তরুণী মিলি আক্তারকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মানবিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আনসার কোম্পানি কমান্ডার মো. আবুল কালাম আজাদ।
পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কথা জানতে পেরে তিনি নিজ উদ্যোগে তাঁদের যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে বালিয়াডাঙ্গী থানায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মিলিকে তাঁর মা ও ভাইয়ের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
জানা যায়, গত ২ জুলাই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ জানতে পারেন, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ী বাজার এলাকায় ঢাকাগামী একটি বাস থেকে অচেতন অবস্থায় এক তরুণীকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ওই তরুণীর বাড়ি খুলনা জেলায়।
খবর পাওয়ার পরই তিনি খুলনা জেলার আনসার-ভিডিপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
উপজেলা প্রশিক্ষক রাকিব ও জেলা কমান্ড্যান্ট মিনহাজ আরেফিনের সহযোগিতায় বিষয়টি স্থানীয় আনসার সদস্যদের মধ্যে জানানো হলে রাহাত নামে এক ওয়ার্ড লিডার তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
পরবর্তীতে ভিডিও কলে মিলির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করেন আবুল কালাম আজাদ।
পরে এসব তথ্য বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠানো হলে প্রশাসন পরিচয় যাচাই করে নিশ্চিত হয়।
আবুল কালাম আজাদ জানান, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি পরিবারকে দ্রুত ঠাকুরগাঁওয়ে আসতে অনুরোধ করেন।
তবে পরিবারের সদস্যরা অর্থাভাবে আসতে পারছিলেন না। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি তাঁদের যাতায়াত ও খাবারের সমস্ত ব্যয় ব্যক্তিগতভাবে বহনের আশ্বাস দেন।
এরপর শুক্রবার বিকেলে খুলনা থেকে মিলির মা ও ভাই ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হন। পুরো পথজুড়ে তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন কমান্ডার আবুল কালাম।
শনিবার সকালে তাঁরা ঠাকুরগাঁও বাস টার্মিনালে পৌঁছালে তিনি দুইজন ভিডিপি সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের অভ্যর্থনা জানান এবং নিজের গাড়িতে করে বালিয়াডাঙ্গী থানায় নিয়ে যান।
থানায় প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর মিলিকে তাঁর মা ও ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দীর্ঘদিন পর মেয়েকে সুস্থ ও নিরাপদে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাঁর মা।
মিলির পরিবার জানায়, কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তা করার জন্য তারা আনসার কোম্পানি কমান্ডার মো. আবুল কালাম আজাদ এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞ।
এসআর