[email protected] শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

ভূরুঙ্গামারীতে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও উৎকোচ দাবির অভিযোগ

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২ জুলাই ২০২৬ ১০:৫১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ভূরুঙ্গামারীতে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও উৎকোচ দাবির অভিযোগ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন শিক্ষা-সংক্রান্ত বরাদ্দের অর্থ বিতরণে অনিয়ম, উৎকোচ দাবি এবং অর্থ আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসব অভিযোগ তুলে ধরে কুড়িগ্রাম-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরে স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভ্যাট কর্তনের পর বিদ্যালয়গুলোর হিসাবে অর্থ পৌঁছানোর কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট অর্থ উত্তোলনের পর তা সময়মতো বিদ্যালয়গুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয়প্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা উৎকোচ দেওয়ার শর্তে সীমিত সংখ্যক বিদ্যালয় বরাদ্দ পেলেও অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও অর্থ পায়নি।
একইভাবে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য বিদ্যালয়প্রতি ৭ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দের ক্ষেত্রেও ৫০০ টাকা উৎকোচ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, যারা অর্থ দিতে রাজি হননি, তাদের একটি অংশ এখনও বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত রয়েছে।


এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য বিদ্যালয়প্রতি দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেই অর্থ বিতরণে বিলম্ব এবং ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, উৎকোচ না দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলো এখনও বরাদ্দের অর্থ হাতে পায়নি।


অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ভোটহাট ও দক্ষিণ চর-ভূরুঙ্গামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামতের জন্য এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে অর্থ পৌঁছায়নি।


এদিকে উপজেলার ৩৯ জন নৈশপ্রহরীর বেতন বাবদ বরাদ্দের অর্থ বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মাত্র দুই-তিনজন নৈশপ্রহরী বেতন পেলেও অধিকাংশকে বঞ্চিত করা হয়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানান, তারা প্রয়োজনীয় ভাউচার ও কাগজপত্র সংশোধন করে জমা দিলেও এখনও বরাদ্দের অর্থ পাননি। তাদের অভিযোগ, উৎকোচ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই কেবল অর্থ পেয়েছে।


আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা কিছু বিদ্যালয়ই বরাদ্দের অর্থ পেয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রংপুর থেকে নিয়মিত যাতায়াত করেন এবং সপ্তাহে মাত্র তিন দিন অফিসে উপস্থিত থাকেন। এতে শিক্ষক ও সেবাপ্রার্থীদের নানা প্রশাসনিক কাজে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।


অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিক্ষা কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দ্রুত অফিসে উপস্থিত হয়ে স্লিপের টাকা এবং ভোটকেন্দ্র মেরামতের বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের হিসাবে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম জানান, তিনি অভিযোগের লিখিত কপি পেয়েছেন এবং বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর