কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে র্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই মিস্ত্রীকে নির্দোষ দাবি করে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার গোমারবাড়ি এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তাদের অভিযোগ, মুজিবুল হক ও সিয়াম নামে দুই শ্রমজীবী ব্যক্তিকে অভিযানের সময় সাক্ষী হিসেবে নেওয়ার কথা বলে সঙ্গে নেওয়া হলেও পরে মাদক মামলায় আসামি করা হয়েছে।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফতেহপুর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে সিনথিয়া ইসলাম ও রাবিয়া বেগম নামে দুই নারীকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৩ কেজি গাঁজা, একটি বিদেশি মদের বোতল এবং ছয় বোতল বিয়ার জব্দ করা হয়।
র্যাবের দাবি, ওই দুই নারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোমারবাড়ি পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ২৭৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং মুজিবুল হক ও সিয়ামকে আটক করা হয়।
তবে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের সময় মুজিবুল হক ও সিয়াম পাশের এলাকায় বসে ছিলেন। র্যাব সদস্যরা তাদের পথ দেখানোর জন্য সঙ্গে নেন এবং পরে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার কার্যক্রম শেষে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। পরদিন তাদের বিরুদ্ধেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যেখান থেকে গাঁজা উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে, সেই গোয়ালঘর দুই মিস্ত্রীর নয়। তাদের পরিবারে কোনো গোয়ালঘরও নেই এবং তারা গরু পালন করেন না। তাই প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে নিরপরাধদের মুক্তির দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ নয়ন, মো. ইউসুফ, জসিম উদ্দিন, বেলাল হোসেন, মারুফ হোসেন ও মো. দীপুসহ স্থানীয়রা। তারা বলেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা উচিত।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক নূর নবী বলেন, র্যাবের দায়ের করা মাদক মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসআর