[email protected] মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

যমুনার পানি বাড়ছে, ইসলামপুরে বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২৬ ৯:৩৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

পানি বাড়তে থাকায় কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


মঙ্গলবার (৩০ জুন) জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা ২৭ সেন্টিমিটার বেড়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাপধরী, চিনাডুলী ও নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি নিচু এলাকায় ইতোমধ্যে পানি প্রবেশ করেছে। এতে আমনের বীজতলা, পাট, শাকসবজিসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক বাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।


ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করলেও আকস্মিক বন্যার কারণে তাদের ফসল হুমকির মুখে পড়েছে। তারা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।


সাপধরী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল হাকিম প্রামাণিক জানান, তার তিন বিঘা জমির পাট পানিতে ডুবে গেছে। দীর্ঘদিন পানি থাকলে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই এলাকার আরেক কৃষক রফিক মণ্ডল বলেন, তার সবজিক্ষেতের একটি অংশ ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে, পানি আরও বাড়লে পুরো ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


এদিকে, প্লাবিত এলাকায় কয়েকটি গ্রামীণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে। স্থানীয়রা বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।


ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, যমুনা তীরবর্তী চারটি ইউনিয়নে প্রায় ২৫ হেক্টর জমির পাট, বীজতলা ও সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর