কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রান্তিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে দিনব্যাপী ‘পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়। ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা অতিরিক্ত উপপরিচালক শাহিনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কাউছার মিয়া, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আরিফ হোসেন সানি, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল আলম রফিক এবং কটিয়াদী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ মুরছালিন দারাশিকো। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আজহার মাহমুদ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তর করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক ও আইএফএডির যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘পার্টনার’ প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও সেবা আরও কার্যকরভাবে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাতের ফসল, ফল এবং নিরাপদ সবজির বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন অতিথিরা। এ সময় তারা সফল কৃষক ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানেন।
দিনব্যাপী আয়োজনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক-কৃষাণী, কৃষি উদ্যোক্তা, মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও উৎসাহিত করবে এবং স্থানীয় কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসআর