[email protected] রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

লালমোহনে ট্রাকসহ আয়রন ব্রিজ ভেঙে খালে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ৫ গ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬ ৯:০৯ এএম

সংগৃহীত ছবি

ভোলার লালমোহন উপজেলায় বালুভর্তি ট্রাক নিয়ে একটি আয়রন ব্রিজ ভেঙে খালে পড়ার

 ঘটনায় ৫টি গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গত ২৩ জুন দুপুরে উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের চর উমেদ গ্রামে বেতুয়া খালের ওপর এই দুর্ঘটনা ঘটে।

একটি বালুভর্তি ট্রাক পার হওয়ার সময় প্রায় দুই যুগ আগে নির্মিত ৪৫ মিটার দীর্ঘ ও ৩ মিটার প্রস্থের ব্রিজটি বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রাকচালক নাঈম নিহত হন এবং হেলপার আলামিন গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। এই ঘটনার পর থেকে ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চরমোল্লাজি, চতলা, পাটোয়ারী বাজার ও কাজীরবাজারসহ আশপাশের এলাকার মানুষের উপজেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় ৫ বছর ধরে ব্রিজটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙায়নি বা ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। এলজিইডির এই গাফিলতির কারণেই এত বড় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।

বর্তমানে পারাপারের একমাত্র ভরসা জনপ্রতি ৫ টাকা ভাড়ার একটি ডিঙি নৌকা, যা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, ব্রিজটি না থাকায় এক কিলোমিটারের পথ এখন ৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে এবং কাঁচা সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে ওই এলাকায় কোনো জরুরি অ্যাম্বুলেন্স বা কৃষিকাজের ভারী যন্ত্রপাতি নেওয়ার সুযোগ নেই।

​এদিকে লালমোহন উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানজিলুর রহমান স্বীকার করেছেন যে ব্রিজটি ভারী ট্রাক চলাচলের উপযোগী ছিল না। তিনি জানান, পানির নিচের পোস্টগুলো দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে ট্রাকের ঝাঁকুনি নিতে না পেরে ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে অনুর্ধ্ব ১০০ মিটার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় তথ্য পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলছে। সাইনবোর্ডের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজগুলোতে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছিল, তবে তা সংরক্ষণের দায়িত্ব সবার ছিল। উল্লেখ্য, পুরো উপজেলায় এখনও এমন ১১টি ঝুঁকিপূর্ণ আয়রন ব্রিজ রয়েছে, যা দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত অপসারণ করে নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এসআর

সম্পর্কিত খবর