কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে বসবাসরত এক রোহিঙ্গা নাগরিকের বিরুদ্ধে ভুয়া পরিচয়ে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করে দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান (হাজু) নামে পরিচিত হলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে তিনি মো. রফিক নামে নিবন্ধিত বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকৃত পরিচয় গোপন করে সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা আব্বাস আলী ও ফাতেমা খাতুনকে বাবা-মা হিসেবে দেখিয়ে তিনি বাংলাদেশি নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেন।
বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়াপ্রবাসী এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় হাফিজুর রহমান একটি মানব পাচার চক্র পরিচালনা করে আসছেন।
ওই চক্রের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা মো. আল আমিন ও ছেনুয়ারা বেগমের ছেলে শহীদুল্লাহ (শানু)কে মালয়েশিয়া পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে মোট ৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
তবে অর্থ নেওয়ার পর থেকে ওই শিক্ষার্থীর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারটির অভিযোগ, ধারদেনা ও ঋণ করে টাকা দেওয়ার পরও তাদের সন্তানকে ফেরত পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সন্তোষজনক তথ্য না পাওয়ায় তারা চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, হাফিজুর রহমান শুধু মানব পাচার নয়, মাদক ও চোরাচালান সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত।
অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার পর তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন বলেও দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তার ভাষ্য, মালয়েশিয়াপ্রবাসী এক আত্মীয়ের অনুরোধে তিনি কিছু সহযোগিতা করেছিলেন, তবে মানব পাচার বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েকজন জানান, এর আগেও একই ধরনের অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার বাসায় গেলে তিনি সেখান থেকে সরে যান বলেও তারা উল্লেখ করেন।
এলাকার সচেতন মহলের কয়েকজনের দাবি, শহীদুল্লাহ একমাত্র ভুক্তভোগী নন; আরও কয়েকজন একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন।
তবে নানা কারণে অনেকে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও তারা মন্তব্য করেন।
এ ঘটনায় সেন্টমার্টিন স্টুডেন্টস ইউনিটির সহায়তায় ভুক্তভোগী পরিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা, নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার এবং মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
পাশাপাশি ভুয়া পরিচয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণের অভিযোগেরও তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ থানা ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সেন্টমার্টিন স্টেশনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এসআর