[email protected] শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
৬ আষাঢ় ১৪৩৩

রাজশাহীতে দুই রেস্তোরাঁয় হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণ, প্রতিবাদে মানববন্ধন

আবু কাওছার মাখন, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৬ ৩:৪০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

রাজশাহী মহানগরীর বিনোদপুর বাজার এলাকায় দুটি রেস্তোরাঁয় হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

হামলায় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, ঘটনায় তাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি রেস্তোরাঁর কর্মচারীর সঙ্গে এক ব্যক্তির বাগ্‌বিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরে একদল লোক ‘বাংলা টিফিন’ ও ‘বঙ্গভোজ’ নামের দুটি খাবারের দোকানে হামলা চালায়। হামলাকারীরা দোকানের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় এলাকায় একাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যার ফলে বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিস্ফোরণের শব্দে অনেক ব্যবসায়ী দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করেও ককটেল নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হন এবং পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, হামলায় রেস্তোরাঁগুলোর আসবাবপত্র, ফ্রিজ, গ্লাস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পাশাপাশি ক্যাশবাক্স থেকে নগদ অর্থও লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

রেস্তোরাঁ মালিক মোর্শেদ শাকিল বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তিনি মনে করেন, সামান্য একটি ঘটনার জেরে এত বড় সহিংসতা অস্বাভাবিক এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন।

এদিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদে সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির রাজশাহী জেলা শাখা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা বলেন, এ ধরনের ঘটনা ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে।

তারা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কবির বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহত পুলিশ সদস্য চিকিৎসা নিয়েছেন এবং এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি জানান, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান।

এসআর

সম্পর্কিত খবর