[email protected] রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জগন্নাথপুরে ব্যাংক হিসাবের ৫ লাখ টাকা নিয়ে রহস্য, গ্রাহকের অভিযোগে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬ ৯:১৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে একটি ব্যাংক হিসাবের ৫ লাখ টাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায় গ্রাহক ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।

টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে হিসাবের অর্থের কোনো স্পষ্ট তথ্য না পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।


রোববার স্থানীয় ইসলামী ব্যাংক শাখায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে শাখা ব্যবস্থাপক ব্যাংক ত্যাগের চেষ্টা করলে উপস্থিত কয়েকজন গ্রাহক তার কাছ থেকে বিষয়টির ব্যাখ্যা জানতে চান।


জানা যায়, দিরাই উপজেলার জগদল এলাকার বাসিন্দা ছতর মিয়ার হিসাবে প্রায় ৫ লাখ টাকা জমা ছিল। কিছুদিন ধরে তিনি সেই অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করলেও বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি অন্য একটি ব্যাংকে হিসাব খুলে অর্থ স্থানান্তরের উদ্যোগ নেন।


তবে ব্যাংকে গিয়ে নিজের হিসাবের অবস্থা জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট অর্থ অন্য একটি ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরিত হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি ওই ব্যাংকে যোগাযোগ করলে সেখানে এমন কোনো অর্থ জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন।


এ অবস্থায় ছতর মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা ব্যাংকে এসে বিষয়টির সুরাহা দাবি করেন। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, বিদেশে অবস্থানরত তাদের ছেলেকে জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা করতে এই অর্থ প্রয়োজন ছিল। কিন্তু হিসাবের অর্থ কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট কোনো তথ্য পাচ্ছেন না।


ঘটনার পর ব্যাংকে উপস্থিত অন্য গ্রাহকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেকেই ব্যাংকিং সেবা ও টাকা উত্তোলনসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
স্থানীয় কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থ উত্তোলন ও লেনদেন নিয়ে নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


অন্যদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি মূলত প্রযুক্তিগত বা সিস্টেম-সংক্রান্ত একটি জটিলতা। শাখা ব্যবস্থাপক মো. জহির উদ্দিন জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয় এবং গ্রাহকের অর্থের অবস্থান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানা গেছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর