আগামী ১৩ জুন কক্সবাজার সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন জেলা কক্সবাজারে এটি হবে তাঁর প্রথম সরকারি সফর। এ সফরকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে
দীর্ঘদিনের নানা উন্নয়ন ও জনসেবামূলক দাবির বাস্তবায়নের আশায় জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বিশেষ করে ‘ভয়েস অব কক্সবাজার ভলান্টিয়ার্স’, এ সফরকে ঘিরে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেছে, যেগুলোকে তারা জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রয়োজন ও প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করছে।
দিনব্যাপী ব্যস্ত কর্মসূচি
চূড়ান্ত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকালে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হবেন। সফরের শুরুতে সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় একটি খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। পরে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া জুলাই ২০২৪-এর আন্দোলনে নিহত কক্সবাজারের প্রথম শহীদ মো. ওয়াসিমের কবর জিয়ারত এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। একই দিনে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা ও পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কর্মসূচিও রয়েছে।
বিকেলে চকরিয়ায় এক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি সন্ধ্যায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও মেরিন ড্রাইভ এলাকা পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। রাতের দিকে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
যে ৭টি দাবি নিয়ে সোচ্চার স্থানীয়রা
কক্সবাজারের নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠন জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণের স্বার্থে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি সামনে এনেছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
১. জেলা সদর হাসপাতালে আধুনিক কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার, বার্ন ইউনিট, আইসিইউ ও সিসিইউ সুবিধা সম্প্রসারণ।
২. সেন্টমার্টিন দ্বীপে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং জরুরি সি-অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু।
৩. মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থায়ী সিজারিয়ান সেবা এবং সমুদ্রপথে জরুরি চিকিৎসা পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৪. পর্যটন ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ সহজ করতে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া।
৫. টেকনাফসহ বিভিন্ন এলাকায় অপহরণ, মাদক পাচার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া জোরদার করা।
৬. সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সী-নেট স্থাপন, লাইফগার্ড সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা নজরদারি বাড়ানো।
৭. কক্সবাজার শহরের যানজট কমাতে অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
নিরাপত্তা ও প্রস্তুতিতে প্রশাসন
প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সরকারি কর্মসূচিগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
প্রত্যাশা উন্নয়নের নতুন দিগন্ত
স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, কক্সবাজারের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নজর দেওয়া জেলার জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তারা আশা করছেন, সফরের সময় জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কার্যকর ঘোষণা ও উন্নয়ন পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও পর্যটন খাতের বাস্তব উন্নয়নের নতুন পথ উন্মুক্ত করবে এবং কক্সবাজারকে আরও আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
এসআর