কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পরিষদের কার্যক্রমে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন পরিষদের নয়জন সদস্য।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল হাইকে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্য তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অনাস্থা প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী নিয়মিত পরিষদ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও চলতি বছরের শুরু থেকে কোনো সাধারণ সভা আয়োজন করা হয়নি। এ বিষয়ে সদস্যরা একাধিকবার অনুরোধ জানালেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি বরাদ্দের অর্থ পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই ব্যয় করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব তহবিল ব্যবস্থাপনা, বাজেট এবং আর্থিক হিসাব-নিকাশ সম্পর্কিত তথ্য সদস্যদের কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।
তারা আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাইলে প্যানেল চেয়ারম্যান সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবদুল হাই। তার দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি নিয়ম মেনেই পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যারা অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন, তাদের অনেকেই দীর্ঘ সময় পরিষদের কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন জানান, ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অনাস্থা প্রস্তাব পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসআর