[email protected] রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসককে ঘিরে বিতর্ক, অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬ ৮:২৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীর এক স্বজনের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শারীরিক লাঞ্ছনা ও মারধরের অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তা অস্বীকার করেছেন। ঘটনা তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।

 

অভিযোগকারী মো. উবায়দুল্লাহ, যিনি পাকুন্দিয়া উপজেলার বাসিন্দা, দাবি করেন যে তিনি তার অসুস্থ স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসক উপস্থিত না হওয়ায় তিনি হাসপাতালের পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করেন।

পরে চিকিৎসকের কক্ষে গেলে তাকে ভিডিও মুছে ফেলতে চাপ দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে তিনি শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কক্ষের দরজা বন্ধ করে কয়েকজন কর্মচারী তাকে ঘিরে ধরেন এবং মারধর করেন। এ সময় তার স্ত্রী ও শিশুসন্তান আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে বাইরে থাকা অন্যান্য রোগী ও স্বজনদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে তিনি জানান। ঘটনার পর তিনি সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

 

ঘটনার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। হাসপাতালের বিভিন্ন রোগী ও স্বজনদের কেউ কেউ জানান, সংশ্লিষ্ট কক্ষ থেকে উচ্চস্বরে বাকবিতণ্ডা ও বিশৃঙ্খলার শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন।

 

তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌ অভিযোগের সবকিছুই প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, অভিযোগকারী ব্যক্তি নিয়ম না মেনে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং সিরিয়াল ভঙ্গ করে কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে অন্য রোগীদের সঙ্গে তার তর্কাতর্কি হয়। উল্টো অভিযোগকারী তার সহকারী ও তার সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

 

চিকিৎসক আরও জানান, নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন মনে করে তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. নূর মো. শামসুল আলমও বলেন, বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।

 

এদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল করিম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, উভয় পক্ষই অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর