যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় সাবিয়া ইয়াসমিন রিমু (২০) নামে এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় রিমুর স্বামী, শাশুড়ি, শ্বশুর ও এক আত্মীয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা।
বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বাবা শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার মেয়ের স্বামী শিহাব শাহরিয়ার রিয়াদ এবং রিয়াদের চাচী আসমাউল হুসনা কেয়ার মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানার পর রিমু প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের রায়পটন গ্রামের বাসিন্দা শিহাব শাহরিয়ার রিয়াদের সঙ্গে পারিবারিকভাবে রিমুর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু হয়। নির্যাতনের কারণে একপর্যায়ে রিমু বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরে দুই পরিবারের মধ্যস্থতায় তিনি আবার শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান।
গত ৩ জুন রিমুর মৃত্যুর খবর পায় তার পরিবার। শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করা হলেও নিহতের স্বজনরা এতে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তাদের দাবি, ঘটনাস্থল ও মরদেহে পাওয়া বিভিন্ন আলামত আত্মহত্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও ফ্যানের কোনো ক্ষতির চিহ্ন ছিল না। এছাড়া মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় নয়, খাটের ওপর শোয়ানো অবস্থায় দেখা যায়। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং গলায় চাপ প্রয়োগের আলামত ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, রিয়াদ, তার মা রেহেনা সুলতানা, বাবা শহিদুল ইসলাম এবং চাচী আসমাউল হুসনা কেয়া যৌথভাবে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মা নার্গিস খাতুনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এসআর