[email protected] মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিশ্বকাপ ঘিরে কটিয়াদীতে উৎসবের আবহ, বাড়ছে পতাকা ও জার্সির বিক্রি

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯ জুন ২০২৬ ৯:১৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

টুর্নামেন্ট শুরুর দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে সমর্থকদের প্রস্তুতি। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে অনেকে কিনছেন জার্সি ও পতাকা।


উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও ক্রীড়াসামগ্রীর দোকান ঘুরে দেখা যায়, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের পতাকা ও জার্সিতে সেজে উঠেছে দোকানগুলো। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, পর্তুগাল, ফ্রান্স, জার্মানি এবং সৌদি আরবের পতাকার চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেক দোকানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাও বিক্রি হচ্ছে সমানতালে।


ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই বিক্রি শুরু হয়েছে। এখন প্রতিদিনই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। ছোট-বড় বিভিন্ন মাপের পতাকা এবং নানা ডিজাইনের জার্সি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। পণ্যের মান ও আকার অনুযায়ী দামও ভিন্ন ভিন্ন।


স্থানীয় এক ক্রীড়াসামগ্রীর দোকানের কর্মচারী ইব্রাহিম বলেন, বিশ্বকাপ সামনে রেখে ক্রেতাদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে জার্সির চাহিদা বেশি। খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি আরও বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।


শুধু দোকান নয়, ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারাও এ মৌসুমে ভালো ব্যবসার আশা করছেন। কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এলাকার সামনে পতাকা ও জার্সি বিক্রি করা আবদুল কাদির জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপ ও বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট উপলক্ষে এই ব্যবসা করে আসছেন। এবারও ভালো সাড়া পাচ্ছেন।


তিনি বলেন, বিভিন্ন মাপের পতাকা ১০০ টাকা থেকে শুরু করে কয়েকশ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। জাতীয় পতাকারও আলাদা চাহিদা রয়েছে। ঈদের আগে বিক্রি বেশ ভালো হয়েছে এবং খেলা শুরু হলে আরও ক্রেতা বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।


এদিকে জার্সিতে নাম ও নম্বর লেখার কাজ নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। স্থানীয় কারিগর রিয়াদুল ইসলাম সোহাগ জানান, জার্সির ধরন ও লেখার মান অনুযায়ী আলাদা আলাদা মূল্য নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি অর্ডার এসেছে আর্জেন্টিনা দলের জার্সির জন্য। এরপর রয়েছে ব্রাজিল ও পর্তুগালের সমর্থকদের চাহিদা।


ক্রেতাদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। বোয়ালিয়া এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন মাহিন জানান, প্রিয় দলের জার্সির দাম কিছুটা বেশি হলেও বিশ্বকাপের আনন্দের জন্য তা কিনতে আপত্তি নেই। তবে নাম লেখানোর খরচ আরও কিছুটা কম হলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।


স্থানীয়দের মতে, মাঠের খেলা শুরু হওয়ার আগেই কটিয়াদীর বিভিন্ন এলাকায় বিশ্বকাপের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডা—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ফুটবল বিশ্বকাপ। প্রিয় দলকে ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে পুরো উপজেলায় যেন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর