[email protected] সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে বগুড়া বিমানবন্দর, বদলে যেতে পারে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ জুন ২০২৬ ৬:৪৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বাইরে থাকা বগুড়া বিমানবন্দরকে আধুনিক বিমান পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বিনিয়োগে বিমানবন্দরটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং আধুনিক যাত্রীসেবা সুবিধা নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যান, রানওয়ে ডিজাইন, টার্মিনাল ভবনের নকশা এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয় তদারকিতে Bangladesh University of Engineering and Technology-কে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানবন্দরটি চালু হলে বগুড়ার পাশাপাশি Joypurhat, Naogaon, Gaibandha, Rajshahi এবং Sirajganj জেলার মানুষও সরাসরি উপকৃত হবেন। বিশেষ করে কৃষিপণ্য, সবজি ও কৃষিযন্ত্রপাতি দ্রুত পরিবহন এবং রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।


বগুড়া শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে এরুলিয়া এলাকায় অবস্থিত বিমানবন্দরটি মূলত কার্গো পরিবহনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হয়েছিল। নব্বইয়ের দশকে জেলার উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হয়নি।


পরবর্তীতে এটি সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতে শুরু করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে সেই উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হচ্ছে।


বর্তমানে বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ফুট। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি ১০ হাজার ফুট পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে নতুন ট্যাক্সিওয়ে, এপ্রোন, আধুনিক যাত্রী টার্মিনাল, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানের নেভিগেশন ও আলোকসজ্জা সুবিধা।


প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ভূতাত্ত্বিক জরিপ, মৃত্তিকা পরীক্ষা, পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং আর্থিক বিশ্লেষণও করা হবে। এছাড়া সংযোগ সড়ক, যানবাহন পার্কিং এলাকা এবং অন্যান্য সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিমানবন্দর চালু হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে। তবে অনেকেই দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, কারণ অতীতেও একাধিকবার বিমানবন্দর উন্নয়নের ঘোষণা এলেও তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।


ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ধারণা, বিমানবন্দর চালু হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানো সহজ হবে। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে সময় ও ব্যয় কমে আসবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর