প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও চা-বাগানের জন্য পরিচিত শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনেও প্রত্যাশিত পর্যটক সমাগম দেখা যায়নি।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে আগাম বুকিংয়ের হারও ছিল কম। ফলে উপজেলার বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্রের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কক্ষ এখনো খালি রয়েছে।
এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
ঘুরে দেখা গেছে, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বাইক্কা বিল, হাইল হাওর, টি রিসোর্ট ও টি মিউজিয়াম, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধসহ জনপ্রিয় স্থানগুলোতে স্থানীয় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি থাকলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পর্যটকের সংখ্যা ছিল সীমিত।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ট্রেনের টিকিটসংকট, তুলনামূলক কম ছুটি এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নানা উদ্বেগের কারণে অনেকেই এবার ভ্রমণ পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। এর প্রভাব পড়েছে পুরো পর্যটন খাতে।
ঢাকা থেকে আসা এক দর্শনার্থী জানান, আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার শ্রীমঙ্গলে মানুষের ভিড় অনেক কম। ফলে প্রকৃতি উপভোগে স্বস্তি মিললেও পর্যটক উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো নয়।
আরেক পর্যটক বলেন, পর্যটন এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার এবং পর্যাপ্ত বসার স্থান বাড়ানো হলে ভ্রমণকারীরা আরও বেশি সুবিধা পাবেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটক কম থাকায় বিক্রিও কমে গেছে। বিশেষ করে মৌসুমি ফল বিক্রেতারা আশঙ্কা করছেন, চাহিদা না বাড়লে তাদের অনেক পণ্য অবিক্রীত থেকে যেতে পারে।
একটি বেসরকারি রিসোর্টের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, প্রত্যাশিত বুকিং না পাওয়ায় অনেক কক্ষ ফাঁকা রয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শ্রীমঙ্গলের পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, চলতি ঈদে আবাসন প্রতিষ্ঠানের বুকিং হার প্রায় ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে, যা সাধারণ ঈদ মৌসুমের তুলনায় কম।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন মাঠে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ঈদ উৎসবের সময়েও পর্যটননির্ভর শ্রীমঙ্গলে প্রত্যাশিত প্রাণচাঞ্চল্য না ফেরায় উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।
এসআর