কক্সবাজারের টেকনাফে ইন্টারনেট সংযোগের কাজের আড়ালে পরিচালিত একটি জালনোট তৈরির চক্রের সন্ধান পেয়েছে Border Guard Bangladesh (বিজিবি)।
অভিযানে জাল টাকা, প্রিন্টিং সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ডিভাইসসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের হ্নীলা মোচনী এলাকায় বিজিবির একটি বিশেষ অভিযানে প্রথমে ১২ লাখ টাকার জালনোট উদ্ধার করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে একটি টিনশেড ঘরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জালনোট ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
আটক দুজন হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল এলাকার নাজমুল (৩০) এবং টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার আজিজুর রহমান (৩৬)।
বিজিবি সূত্র জানায়, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জালনোট পাচারের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি টহল দল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে একটি টমটম চেকপোস্টের সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে সেটি আটক করা হয়।
পরে গাড়িতে থাকা একটি ব্যাগ থেকে ১ হাজার টাকার ১২টি বান্ডিল জালনোট এবং কিছু আসল টাকা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক একজন জানান, নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তিনি এসব জালনোট বাজারে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
এরপর জাদিমুড়া বাজারসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় Border Guard Bangladesh। সেখানে গিয়ে সদস্যরা দেখতে পান, ছোট একটি টিনশেড ঘরেই জালনোট তৈরির সরঞ্জাম বসিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল।
অভিযানে একটি ল্যাপটপ, একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, দুটি কালার প্রিন্টার, বিশেষ কাগজ, কালি এবং বিপুল পরিমাণ আধা-প্রস্তুত ও প্রস্তুত জালনোট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত জালনোটের পরিমাণ আনুমানিক কোটি টাকার সমপরিমাণ বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র কয়েকদিন আগে নিজেদের ব্রডব্যান্ড ও ওয়াই-ফাই প্রযুক্তিকর্মী পরিচয় দিয়ে ওই ঘরটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, আসন্ন কোরবানির পশুর হাট ও সীমান্ত এলাকার বাজারগুলোতে এসব জালনোট ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল চক্রটির।
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মুবাশশির নাকীব তরফদার জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এসআর