অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন 'আইফোন ডুয়ে'র (iPhone Duo) বাজারজাতকরণ ঘিরে
তৈরি হয়েছে তীব্র সরবরাহ সংকট। অভাবনীয় চাহিদার কারণে অনলাইনে অর্ডার দেওয়ার পরও ক্রেতাদের ফোন পেতে আগামী বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। উৎপাদন ত্বরান্বিত করার চেষ্টা চললেও চাহিদা ও যোগানের মধ্যে এই বৈষম্য কবে নাগাদ দূর হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
গত সোমবার অ্যাপলের আর্থিক প্রতিবেদন সংক্রান্ত এক সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) সাবিহ খান জানান, আইফোন ডুয়ের উৎপাদন বৃদ্ধির কাজ পুরোদমে চলছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ এই সরবরাহের ভারসাম্য ফিরবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদ মাধ্যম টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাজারে আসার পরপরই ফোনটির চাহিদা তুঙ্গে ওঠে। যারা অ্যাপল স্টোর থেকে সরাসরি সংগ্রহ করতে পারেননি বা আগাম অর্ডার দেননি, তাদের অনেকেই ডেলিভারির জন্য ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় পাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান ভেরাইজন ফোন সরবরাহে বিলম্বের জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে গিফট কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্যমতে, বিক্রির মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাপলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফোনটির স্টক শেষ হয়ে যায়, যা অ্যাপল 'অসাধারণ চাহিদা' হিসেবে অভিহিত করেছে।
সাধারণত অ্যাপল তাদের শক্তিশালী সাপ্লাই চেইনের জন্য বিখ্যাত হলেও, এই ফোনের সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়া প্রযুক্তি বিশ্বে বেশ বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) শিল্পের দ্রুত প্রসারের কারণে বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপের চাহিদা ও দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়া এর অন্যতম বড় কারণ। এতে স্মার্টফোন তৈরির সামগ্রিক ব্যয় বেড়েছে।
পণ্য উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অ্যাপলও অনিচ্ছা সত্ত্বেও কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে বলে জানান সাবিহ খান। এছাড়া আইফোন ডুয়ের ফ্রেমের জন্য প্রয়োজনীয় টাইটানিয়াম সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘পেরিম্যান’-এর সঙ্গে অ্যাপল তাদের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করছে।
সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জন টার্নাস জানিয়েছেন, ফোনটিকে ঘিরে ক্রেতা ও রিভিউয়ারদের অভূতপূর্ব সাড়ায় তারা অত্যন্ত উৎসাহিত। যত দ্রুত সম্ভব সব ক্রেতার হাতে হ্যান্ডসেটটি পৌঁছে দিতে তারা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
এইচ/এম