[email protected] শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
১৫ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে পানি ছুয়ে উড়বে বৈদ্যুতিক ফেরি: নতুন যুগের সূচনা

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি

পানির ওপর দিয়ে দ্রুত গতিতে চলার পাশাপাশি বিশেষ প্রযুক্তিতে পানির ওপরে ভেসে উড়তে

 সক্ষম—এমন বৈদ্যুতিক ফেরি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। জ্বালানি খরচ কমানো এবং পরিবেশদূষণ রোধে ডিজেলচালিত ফেরির বদলে ব্যাটারিচালিত নৌযান চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

​সম্প্রতি নিউইয়র্ক হারবারে স্ট্যাচু অব লিবার্টির কাছে হাইড্রোফয়েল প্রযুক্তির এমন একটি নৌযানের ট্রায়াল দেন জলযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'ভেসেভ'-এর প্রধান নির্বাহী এরিক লাকম্যান। হাইড্রোফয়েল প্রযুক্তিতে নৌযানের তলায় থাকা ডানার মতো বিশেষ অংশ পানির নিচে থেকে গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল কাঠামোকে পানির ওপরে তুলে ধরে। এতে পানির বাধা ও ঘর্ষণ প্রায় ৬৬ শতাংশ কমে যায় এবং মূল কাঠামো পানির প্রায় দেড় ফুট ওপরে উঠে আসে, ফলে পানির ওপর ভেসে চলার মতো মসৃণ অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

​বৈদ্যুতিক নৌযানের প্রধান চ্যালেঞ্জ ভারী ব্যাটারির ওজন এবং পানির বাধা। হাইড্রোফয়েল প্রযুক্তি পানির বাধা কমায়, ফলে ছোট ব্যাটারি ব্যবহার করেই দ্রুত গতিতে চলা সম্ভব হয়। এতে ব্যাটারির ওজন ও খরচ—দুটোই কমে। তবে এটি কার্যকর করতে চলার দূরত্ব, যাত্রী ধারণক্ষমতা, চার্জিং গতি এবং বহনক্ষমতার সঠিক সমন্বয় প্রয়োজন।

​বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে যাত্রী পরিবহন সেবা দিচ্ছে ভেসেভ। দ্রুতই অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের লেক তাহো এলাকায় কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করছে তারা। পরবর্তীতে পানিপথে বাস বা ট্যাক্সির মতো এই নৌযানগুলোকে গণপরিবহনের অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রতিষ্ঠাতারা। সড়কপথে চাপ না বাড়িয়ে পানিপথ ব্যবহারের এই উদ্যোগ বিশ্ব উষ্ণায়ন ও বায়ুদূষণ কমাবে।

​একই প্রযুক্তিতে কাজ করছে সুইডিশ প্রতিষ্ঠান 'ক্যান্ডেলা'। স্টকহোমে চালুকৃত তাদের প্রযুক্তিতে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত শক্তি খরচ কমানো সম্ভব বলে দাবি করা হয়েছে। নরওয়ে ইতোমধ্যে উপকূলীয় সেবার জন্য ক্যান্ডেলার কাছে ২০টি নৌযানের অর্ডার দিয়েছে।

​এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ যাত্রী বহনকারী বৃহত্তম ফেরি সংস্থাটি ৫০ কোটি ডলারের রূপান্তর প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আগামী দুই বছরে তাদের জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত বহরে ৪টি সম্পূর্ণ ব্যাটারিচালিত উচ্চগতির ফেরি এবং প্রয়োজনীয় চার্জিং অবকাঠামো যুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে।

​যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে চার্জিং অবকাঠামো তৈরি ও নতুন নৌযান কেনার ব্যয় অনেক বেশি, তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম হওয়ায় এই বৈদ্যুতিক ফেরিগুলোকে লাভজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অতি দীর্ঘ দূরত্ব ও ব্যস্ত সময়সূচির মতো চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠেই নতুন এই পরিবহন ব্যবস্থাকে সামনে এগোতে হবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর