[email protected] সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ধারাবাহিক প্রতিবেদন | তৃতীয় পর্ব

বিশ্বজুড়ে ইস্পোর্টসের বিস্তার, প্রতিযোগিতা থেকে পেশার নতুন দিগন্ত

আবদুল হাই তুহিন

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৩ এএম

এআই জেনারেটেড প্রতীকী ছবি

একসময় কম্পিউটার বা মোবাইল গেমকে মূলত বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখা হলেও বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতামূলক গেমিং বা ইস্পোর্টস এখন বড় একটি বৈশ্বিক শিল্পে পরিণত হচ্ছে।

পেশাদার খেলোয়াড়, দল, কোচ, বিশ্লেষক, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, সম্প্রচারক ও আয়োজকদের নিয়ে গড়ে উঠছে বিস্তৃত একটি ইকোসিস্টেম।

বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে বিপুল দর্শক ও বড় অঙ্কের পুরস্কারমূল্য যুক্ত হওয়ায় ইস্পোর্টসের বাণিজ্যিক গুরুত্বও বাড়ছে।

২০২৬ সালের Esports World Cup (EWC)-এর তথ্য অনুযায়ী, এবারের আসরে ১০০টির বেশি দেশের ২ হাজারেরও বেশি খেলোয়াড় অংশ নিয়েছেন।

আয়োজকদের হিসাবে, টুর্নামেন্টটি ৮৫ কোটি দর্শক এবং ৪৪ কোটি ঘণ্টা ওয়াচটাইম পেয়েছে। একই আসরে মোট পুরস্কারমূল্য ছিল ৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।

বৈশ্বিক ইস্পোর্টসের পরিসর কতটা বিস্তৃত হচ্ছে, তার আরেকটি উদাহরণ পাওয়া যায় EWC-এর ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতার তালিকায়।

এতে Counter-Strike 2, Dota 2, League of Legends, VALORANT, PUBG Mobile, Free Fire, Mobile Legends: Bang Bang, Rocket League, Tekken 8, Street Fighter 6সহ বিভিন্ন গেমের প্রতিযোগিতা রয়েছে।

একই আসরে দাবা ও স্পোর্টস-ভিত্তিক গেমও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

ইস্পোর্টসের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এর পেশাগত ক্ষেত্রও বড় হচ্ছে। একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের পাশাপাশি একটি দলের সাফল্যের সঙ্গে কোচ, গেম বিশ্লেষক, ম্যানেজার, ফিজিক্যাল ও পারফরম্যান্স সাপোর্ট, কনটেন্ট প্রযোজনা, সম্প্রচার, ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার মতো বিভিন্ন কাজ যুক্ত থাকে।

ফলে গেমিংকে কেন্দ্র করে সরাসরি প্রতিযোগিতার বাইরেও নানা ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে।

ইস্পোর্টসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (IOC) ২০২৫ সালে প্রথম Olympic Esports Games ২০২৭ সালে সৌদি আরবের রিয়াদে আয়োজনের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

IOC-এর সঙ্গে সৌদি অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক কমিটির অংশীদারত্বে এই আয়োজন হবে এবং Esports World Cup Foundation হবে এর প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার।

এশিয়াতেও ইস্পোর্টসের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসে ইস্পোর্টস প্রতিযোগিতা রাখা হয়েছে। এর ফলে মহাদেশীয় পর্যায়ের ক্রীড়া আয়োজনেও প্রতিযোগিতামূলক গেমিংয়ের জায়গা আরও দৃশ্যমান হচ্ছে।

বিশ্বের এই পরিবর্তনের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ভালো ইন্টারনেট, আধুনিক কম্পিউটার ও মোবাইল ডিভাইস, প্রশিক্ষণ, নিয়মিত প্রতিযোগিতা এবং সংগঠিত দল গড়ে উঠলে দেশের খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

পাশাপাশি গেম স্ট্রিমিং, ভিডিও নির্মাণ, ধারাভাষ্য, টুর্নামেন্ট পরিচালনা ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন কাজেও দক্ষতা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করতে হলে শুধু গেম খেলার দক্ষতা যথেষ্ট নয়।

নিয়মিত প্রশিক্ষণ, দলগত সমন্বয়, কৌশলগত বিশ্লেষণ, মানসম্মত সরঞ্জাম, স্থিতিশীল ইন্টারনেট এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।

পাশাপাশি খেলোয়াড়দের জন্য সুশৃঙ্খল প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বজুড়ে বড় টুর্নামেন্টের বিস্তার এবং অলিম্পিক পর্যায়ে ইস্পোর্টসের নতুন যাত্রা দেখাচ্ছে যে প্রতিযোগিতামূলক গেমিংয়ের পরিধি কেবল বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না।

প্রযুক্তি, ক্রীড়া, বিনোদন ও কনটেন্ট সৃষ্টির সমন্বয়ে ইস্পোর্টস একটি বহুমাত্রিক ক্ষেত্র হিসেবে বিকশিত হচ্ছে।

এই পরিবর্তনের সঙ্গে দক্ষতা ও অবকাঠামো তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশের তরুণদের জন্যও বৈশ্বিক ইস্পোর্টস অঙ্গনে অংশ নেওয়ার নতুন পথ তৈরি হতে পারে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর