[email protected] রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ধারাবাহিক প্রতিবেদন | ২য় পর্ব

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বদলে যাচ্ছে গেমিং প্রযুক্তি, বাড়ছে নতুন সম্ভাবনা

আবদুল হাই তুহিন

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:১০ এএম

এআই জেনারেটেড প্রতীকী ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্রুত বদলে দিচ্ছে গেমিং প্রযুক্তির চিত্র।

গেম তৈরির বিভিন্ন ধাপ থেকে শুরু করে ভার্চুয়াল চরিত্রের আচরণ, সংলাপ, গ্রাফিক্স এবং খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতা—সবখানেই বাড়ছে AI-এর ব্যবহার। গেম ডেভেলপারদের জন্য তৈরি নতুন নতুন AI টুল গেম তৈরির সময় ও কাজের ধরনেও পরিবর্তন আনছে।

গেমের নন-প্লেয়েবল ক্যারেক্টার (NPC) বা খেলোয়াড়ের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা চরিত্রগুলোকে আরও স্বাভাবিক ও ইন্টার‌্যাকটিভ করে তুলতে জেনারেটিভ AI ব্যবহার করা হচ্ছে।

NVIDIA-এর ACE প্রযুক্তির মাধ্যমে NPC-কে কথোপকথন, তথ্য বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা দেওয়ার প্রযুক্তি তৈরি হয়েছে।

২০২৬ সালে NVIDIA তাদের ACE প্রযুক্তিতে একাধিক ভাষায় AI চরিত্রের সক্ষমতা বাড়ানোর তথ্যও জানিয়েছে।

AI শুধু গেমের চরিত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। গেমের গ্রাফিক্স উন্নত করা, ছবি ও অ্যানিমেশন তৈরি, গেমের বিভিন্ন উপাদান প্রস্তুত এবং ডেভেলপমেন্টের কাজে AI ব্যবহার করা হচ্ছে।

NVIDIA-এর DLSS প্রযুক্তি AI-ভিত্তিক নিউরাল রেন্ডারিং ব্যবহার করে ফ্রেম রেট, লেটেন্সি ও ছবির মান উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

গেম তৈরির সফটওয়্যারেও AI-এর ব্যবহার বাড়ছে। Unity ২০২৬ সালের রিপোর্টে জানিয়েছে, গেম স্টুডিওগুলো AI টুল ব্যবহারে আগ্রহী হলেও তারা এর ব্যবহার তুলনামূলকভাবে সতর্ক ও কৌশলগতভাবে এগিয়ে নিচ্ছে।

একই সময়ে Unity-এর AI টুলগুলো গেম ডেভেলপমেন্টের প্রকল্পভিত্তিক কাজ, কোডিং, অ্যাসেট তৈরি ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি নির্মাতাদের দৃষ্টিতে, AI-এর বড় সম্ভাবনার একটি জায়গা হলো গেমের অভিজ্ঞতাকে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক করা।

প্রচলিত গেমে নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট অনুসরণ করা চরিত্রের পরিবর্তে AI-নির্ভর চরিত্র খেলোয়াড়ের কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দিতে পারে। ফলে একই গেমে খেলোয়াড়ভেদে অভিজ্ঞতার পার্থক্য তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের তরুণদের জন্যও এই পরিবর্তন নতুন ধরনের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

গেম খেলার পাশাপাশি গেম ডিজাইন, প্রোগ্রামিং, থ্রিডি মডেলিং, অ্যানিমেশন, AI টুল ব্যবহার এবং কনটেন্ট তৈরির মতো দক্ষতার চাহিদা তৈরি হচ্ছে।

ফলে গেমিংকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে প্রযুক্তিনির্ভর সৃজনশীল শিল্পের অংশ হিসেবেও দেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তবে AI ব্যবহারের ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, ডেটা ব্যবস্থাপনা, কপিরাইট এবং সৃজনশীল কাজের যথাযথ ব্যবহারসহ নানা বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে।

গেম তৈরির ক্ষেত্রে AI মানুষের দক্ষতার বিকল্প না হয়ে সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে AI-নির্ভর গেমিং আরও বিস্তৃত হলে ভবিষ্যতে গেম তৈরি ও খেলার অভিজ্ঞতা বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি ইন্টার‌্যাকটিভ ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক হতে পারে।

আর এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারলে বাংলাদেশের তরুণরাও বৈশ্বিক গেমিং ও প্রযুক্তি শিল্পে নিজেদের জায়গা তৈরি করার সুযোগ পেতে পারেন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর