মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে কঠিন চাপে পড়েছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তৃতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৭৯ রান। সব মিলিয়ে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে স্বাগতিকদের লিড এখন ১০৬ রান। জাকের আলি অনিক ও নাঈম হাসান ১৮ রান করে অপরাজিত রয়েছেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। কোনো রান না করেই শামার জোসেফের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাদমান ইসলাম কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তবে দলীয় ৫০ রানের আগেই আবার বিপর্যয় শুরু হয়।
চেজের বলে বোল্ড হয়ে ১৩ রান করে বিদায় নেন সাদমান। পরের দিকেই শামার জোসেফের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে শূন্য রানে ফেরেন তাওহীদ হৃদয়। আগের ইনিংসে ৪২ রান করেছিলেন তিনি।
এরপর শান্তর বিদায়ের ধাক্কাও সামলাতে পারেনি বাংলাদেশ। ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়া মুমিনুল হকের পরিবর্তে কনকাশন বদলি হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামেন জাকের আলি। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই চা বিরতি দিতে হয়। বিরতির আগে ৩৪ রান তুলতেই চার উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
বিরতির পর ফিরে লিটন দাসও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। জোমেল ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৪ রান করে মাঠ ছাড়েন তিনি। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ৯ রান করে ওয়ারিকানের শিকার হন। ফলে ৩৫ রানের মধ্যে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।
শেষদিকে জাকের আলির সঙ্গে নাঈম হাসান প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তাদের ব্যাটিংয়েই দিনের বাকি সময় পার করে স্বাগতিকরা।
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের প্রথম ইনিংসে আগের দিনের ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে। তেজনারায়ণ চন্দরপল ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন। শরিফুল ইসলামের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ১৮৪ বল মোকাবিলা করেন তিনি। জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে তার জুটি থেকে আসে ৬৫ রান। পরে গ্রিভস ৪৬ রান করে নাঈম হাসানের বলে এলবিডব্লিউ হন।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর ক্যারিবীয়দের বাকি চারটি উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। অভিষিক্ত জশুয়া বিশপ ১৫ রান করে মিরাজের বলে স্টাম্পিং হন। শামার জোসেফ ৪ রান করে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন। জোমেল ওয়ারিকান কোনো রান না করেই এলবিডব্লিউ হন। আর জেইডেন সিলসকে মিরাজের ক্যাচে পরিণত করেন নাঈম।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাঈম হাসান সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নিয়েছেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম দুটি করে এবং হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম একটি করে উইকেট পেয়েছেন।
এখন ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত উইকেট হারানো বন্ধ করে লিড আরও বাড়ানো।
এসআর