লেস্টার সিটির সঙ্গে দীর্ঘ ২০ বছরের সম্পর্কের ইতি টেনে শেফিল্ড ইউনাইটেডে পাড়ি জমালেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী।
২০২৪-২৫ মৌসুমের শেষদিকে ধারে শেফিল্ডের জার্সিতে খেলেছিলেন হামজা। সেই সময় চ্যাম্পিয়নশিপ প্লে-অফে সান্ডারল্যান্ডের কাছে ফাইনালে হেরে যাওয়া দলটির হয়ে লিগে ১৬টি ম্যাচ খেলেন তিনি। এবার স্থায়ীভাবেই ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেন বাংলাদেশি এই তারকা।
লেস্টার সিটির একাডেমিতে বেড়ে ওঠা হামজার মূল দলের হয়ে পথচলা শুরু হয় ২০১৫ সালে। ক্লাবটির হয়ে ১১ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৬৬ ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তিনি। চলতি মৌসুমেও লেস্টারের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছিলেন।
লেস্টারের ইতিহাসে স্মরণীয় দুটি সাফল্যের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে হামজার নাম। ২০১৫-১৬ মৌসুমে ক্লাবটির ঐতিহাসিক প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের দলের সদস্য ছিলেন তিনি। পরে ২০২১ সালে চেলসিকে হারিয়ে লেস্টারের এফএ কাপ জয়ের সময়ও দলের হয়ে মাঠে ছিলেন।
শেফিল্ড ইউনাইটেডে হামজাকে নেওয়ার পেছনে বড় কারণ হিসেবে রাইট-ব্যাক পজিশনে দলের বিকল্প বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। ইনজুরির কারণে দলে কিছু ঘাটতি তৈরি হওয়ায় হামজার বহুমুখী সক্ষমতা কাজে লাগাতে চান তিনি।
ওয়াইল্ডারের মতে, গত মৌসুমে শেফিল্ডে ধারে থাকার সময় শেষ ১০ ম্যাচে হামজাই দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার ছিলেন। প্লে-অফের সেমিফাইনাল ও ফাইনালেও তার পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য।
হামজার সঙ্গে ওয়াইল্ডারের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২২-২৩ মৌসুমে ওয়াটফোর্ডে ধারে খেলাকালেও এই কোচের অধীনে ছিলেন তিনি। ফলে শেফিল্ডে নতুন করে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত হামজা।
নিজের নতুন অধ্যায় নিয়ে হামজা বলেন, ওয়াইল্ডারের অধীনে আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার জন্য ইতিবাচক ছিল। কোচের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও ছিল তাদের। তাই পরিচিত কোচের সঙ্গে আবার কাজ করার সুযোগ পেয়ে তিনি আনন্দিত।
২০২৫ সালের মার্চে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলে অভিষেক হয় হামজার। এরপর থেকেই বাংলাদেশের ফুটবলে অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে ওঠেন তিনি।
শেফিল্ডে যোগ দেওয়াকে নিজের ও পরিবারের জন্য বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন হামজা। প্রায় দুই দশক লেস্টারের সঙ্গে থাকার পর নতুন ক্লাবে নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত এই মিডফিল্ডার। শেফিল্ডের হয়ে সামনে সফল একটি মৌসুম কাটানোর প্রত্যাশাও জানিয়েছেন
এসআর