[email protected] মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
১০ ভাদ্র ১৪৩৩

দুই দিনেই ইনিংস ব্যবধানে হার বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ আগষ্ট ২০২৬ ১২:৫৮ পিএম

অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম টেস্টে ইতিহাস গড়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচেই বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ।

ডারউইনে দুর্দান্ত জয়ের পর ম্যাকাই টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র দুই দিনেই ইনিংস ও ৫১ রানের ব্যবধানে হারল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় টসের পর শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার বোলিংয়ের সামনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও প্রতিরোধ গড়তে পারেনি সফরকারীরা।

এবার ৯৫ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। বিপরীতে এক ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া সংগ্রহ করে ২১০ রান। ফলে দুই ইনিংস মিলিয়েও স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংসের রান পার করতে পারেনি বাংলাদেশ।

এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো টেস্টের দুই ইনিংসেই একশর নিচে অলআউট হওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়া সফরের দুই টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে দেখা গেল সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র।

ডারউইনে প্রথম ম্যাচে প্রায় সাড়ে তিন দিন দাপট দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছিল শান্তর দল। প্রতিটি সেশনেই স্বাগতিকদের ওপর চাপ ধরে রেখেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তবে দ্বিতীয় টেস্টে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি তারা।

ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের বোলাররা কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ম্যাচ দ্রুতই অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

প্রথম টেস্টে হারের পর সিরিজে টিকে থাকতে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না স্বাগতিকদের। শেষ পর্যন্ত দাপুটে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে অস্ট্রেলিয়া।

স্বাগতিকদের জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন মিচেল স্টার্ক। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে একাই বিপর্যস্ত করে দেন এই বাঁহাতি পেসার।

প্রথম পাঁচ ব্যাটারের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ফেরানোর পর আরও একটি উইকেট শিকার করেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে আতঙ্ক ছড়ান স্টার্ক, নেন আরও চার উইকেট।

অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও বল হাতে কার্যকর ছিলেন। দুই ইনিংসেই তিনটি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস আরও ত্বরান্বিত করেন তিনি।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ইনিংস মিলিয়ে এটিই ছিল দলের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শরিফুল ইসলাম। দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের চিত্র বোঝাতে এই পরিসংখ্যানই যথেষ্ট।

তবে বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে উজ্জ্বল ছিলেন শরিফুল। অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র ইনিংসে ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন তিনি।

তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের কারণে অস্ট্রেলিয়ার রান বড় হতে পারেনি এবং বাংলাদেশের লড়াইয়ের ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন ক্যামেরন গ্রিন। এ ছাড়া স্টিভ স্মিথ ৪২, নাথান লায়ন ৩২ এবং ট্রাভিস হেড ২২ রান করেন।

দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই গ্রিনকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বাকি ব্যাটারদেরও দ্রুত ফেরাতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বোলারদের সেই লড়াইয়ের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ইনিংস ব্যবধানে হেরে ১-১ সমতায় অস্ট্রেলিয়া সফরের দুই টেস্টের সিরিজ শেষ করল শান্তর দল।

এসআর

সম্পর্কিত খবর