মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক মহিলা বেসবল চ্যাম্পিয়নশিপ–২০২৬-এর ফাইনালে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি নারী বেসবল দলকে ১৫–১৪ রানে হারিয়েছে মালয়েশিয়া জাতীয় নারী দল। প্রথম আন্তর্জাতিক আসরেই রানার্সআপ বাংলাদেশের।
মালয়েশিয়ায় নিজেদের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি নারী বেসবল দল। তবে ইতিহাসের সেই সাফল্য পূর্ণতা পেল না শিরোপা জয়ে। বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে শক্তিশালী মালয়েশিয়া জাতীয় নারী বেসবল দলের কাছে মাত্র এক রানের ব্যবধানে, ১৫–১৪ রানে হেরে রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ।
১২ আগস্ট শুরু হওয়া মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক মহিলা বেসবল চ্যাম্পিয়নশিপ–২০২৬-এ মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের বিভিন্ন ক্লাব ও জাতীয় দল অংশ নেয়। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বড় কোনো আসরে অংশ নিয়েই বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি নারী বেসবল দল জায়গা করে নেয় ফাইনালে।
শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচেও লড়াই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়ার ১৫ রানের জবাবে বাংলাদেশের সংগ্রহ থামে ১৪ রানে। মাত্র এক রানের ব্যবধানে হারলেও ফাইনালে ওঠার পথ এবং পুরো টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্স বাংলাদেশের নারী বেসবলের জন্য বড় অর্জন হয়ে থাকল।
গ্রুপ পর্বেই মালয়েশিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।ফাইনালে যে মালয়েশিয়ার কাছে বাংলাদেশকে হারতে হলো, সেই দলকেই গ্রুপ পর্বে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল আনসার ও ভিডিপির মেয়েরা। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে শক্তিশালী মালয়েশিয়া জাতীয় নারী বেসবল দলকে ১০–৯ রানে পরাজিত করে বাংলাদেশ। সেই জয় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলটি শেষ পর্যন্ত ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
ফলে ফাইনালেও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশকে ঘিরে ছিল বাড়তি প্রত্যাশা। গ্রুপ পর্বের জয়ের পুনরাবৃত্তি করে শিরোপা ঘরে তোলার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এক রানের ব্যবধানে সেই স্বপ্ন থেমে যায়।
প্রথম আন্তর্জাতিক আসরেই বড় সাফল্য বাংলাদেশের। বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি নারী বেসবল দলের জন্য এটি ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সামর্থ্য জানান দেওয়ার বড় সুযোগ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম আসরেই ফাইনালে পৌঁছে যায় দলটি।
শিরোপা জিততে না পারলেও রানার্সআপ হওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বেসবলে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছে বাংলাদেশের নারী দল। বিশেষ করে গ্রুপ পর্বে মালয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে হারানো এবং পরে একই দলের বিপক্ষে ফাইনালে মাত্র এক রানে হারা বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ চরিত্রই তুলে ধরে।
টুর্নামেন্ট সেরা পিচার বাংলাদেশের। দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনও এসেছে বাংলাদেশের ঘরে। বাংলাদেশ দলের একজন খেলোয়াড় টুর্নামেন্টের সেরা পিচার নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েই দলীয়ভাবে রানার্সআপ হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়ে এমন স্বীকৃতি পাওয়া বাংলাদেশের নারী বেসবলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
জাকির-রনির নেতৃত্বে লড়াকু বাংলাদেশ। পুরো প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি নারী বেসবল দলের ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন জাকির হোসেন এবং কোচ ছিলেন রনি আহমেদ। তাঁদের নেতৃত্বে দলটি পুরো টুর্নামেন্টে দলীয় সমন্বয়, শৃঙ্খলা ও লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে।
ফাইনালে এক রানে পিছিয়ে পড়ার পরও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে বাংলাদেশ। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ঘোচাতে পারেনি তারা। ফলে ১৫–১৪ রানে জয় পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মালয়েশিয়া।
ট্রফি না পেলেও পথ দেখাল বাংলাদেশ। ফাইনালের ফল বাংলাদেশের পক্ষে না এলেও এই প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা দেশের নারী বেসবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রথম আন্তর্জাতিক বড় আসরে অংশ নিয়েই রানার্সআপ হওয়া এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সরাসরি জয় পাওয়ায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নারী বেসবল দলকে নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ বেসবল-সফটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই সাফল্যের জন্য বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি নারী বেসবল দলের খেলোয়াড়, ম্যানেজার, কোচ, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশন মনে করছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথমবারের মতো পাওয়া এই সাফল্য দেশের নারী বেসবলের উন্নয়ন ও বিস্তারে নতুন অনুপ্রেরণা তৈরি করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সাফল্যের পথও তৈরি করবে।
শিরোপার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মাত্র এক রানে হেরেছে বাংলাদেশ। তাই ফাইনালের ফলাফলটি আক্ষেপের হলেও পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের যাত্রা ছিল সাফল্যে ভরা। প্রথম আন্তর্জাতিক আসরেই ফাইনাল, গ্রুপ পর্বে মালয়েশিয়াকে হারানো এবং টুর্নামেন্ট সেরা পিচারের স্বীকৃতি—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের নারী বেসবলের জন্য মালয়েশিয়া সফর হয়ে থাকল একটি স্মরণীয় অধ্যায়।
এসআর