ফুটবলকে বলা হয় সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যের মেলবন্ধন। তবে কখনো কখনো মাঠে
অসংবেদনশীল ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক আচরণের ঘটনা ঘটে। স্প্যানিশ তারকা ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল সম্প্রতি তেমনই এক ঘটনার মুখোমুখি হয়ে নিজের ধর্মীয় পরিচয়কে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরে প্রতিবাদ জানান।
ঘটনার পটভূমি
গত ৩১ মার্চ ২০২৬ বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে স্পেন ও মিশরের মধ্যকার আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচটি ০-০ গোলে ড্র হয়। ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে থাকা কিছু স্প্যানিশ সমর্থক মিশরীয় খেলোয়াড়দের লক্ষ্য করে ধর্মীয় বিদ্রূপাত্মক স্লোগান দিতে শুরু করে— “El que no bote es un musulmán” (অর্থাৎ, যে লাফাবে না, সে মুসলিম)।
স্পেনের ফুটবল সংস্কৃতিতে প্রতিপক্ষকে খোঁচা দেওয়ার জন্য এ জাতীয় সুর ব্যবহার করা হলেও, মুসলিম পরিচয়কে অপমানজনক অর্থে ব্যবহার করায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। উপরন্তু, স্প্যানিশ জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য তারকা লামিনে ইয়ামাল নিজেও একজন মুসলিম, যা ওই সমর্থকদের আচরণকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।
লামিনে ইয়ামালের দৃঢ় অবস্থান
ঘটনার পরদিন ১ এপ্রিল ২০২৬, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি বার্তার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান ইয়ামাল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন— “আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ।”
তিনি উল্লেখ করেন, স্লোগানটি সরাসরি তাঁর প্রতি উদ্দেশ্য করে দেওয়া না হলেও একজন মুসলিম হিসেবে তা অত্যন্ত অসম্মানজনক ও বরদাস্ত করার মতো নয়।
তিনি আরও লেখেন, সব সমর্থক এমন মানসিকতার নন। তবে খেলার মাঠে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে উপহাস করার চেষ্টা বর্ণবাদ ও অজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ। ফুটবল আনন্দ ও সমর্থনের জায়গা, সেখানে কোনো মানুষের বিশ্বাস বা পরিচয়কে অপমান করার সুযোগ নেই।
ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে বার্তা
লামিনে ইয়ামাল সবসময়ই তাঁর ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয় নিয়ে স্পষ্টবাদী। পেশাদার ফুটবলের কঠোর ব্যস্ততার মাঝেও রমজান মাসে রোজা পালনের বিষয়গুলো তিনি প্রকাশ্যেই জানিয়ে আসছেন। গ্যালারির ইসলামোফোবিক আচরণের বিরুদ্ধে তাঁর এই প্রতিবাদ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
এসআর