বিশ্বকাপ ফাইনালে এবারই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত 'সুপার বোল'-এর আদলে
জমকালো হাফটাইম শোর আয়োজন করেছিল ফিফা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই মেগা অনুষ্ঠানে মঞ্চ কাঁপিয়েছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরা, পপ সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় বয়ব্যান্ড বিটিএস।
বিশ্বের অন্যতম বড় এই ক্রীড়ামঞ্চে পারফর্ম করার জন্য এই তারকারা বিপুল অঙ্কের পারিশ্রমিক পাবেন বলে ধারণা করা হলেও, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য অ্যাথলেটিক'-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। জানা গেছে, এই পারফরম্যান্সের জন্য তিন শিল্পীর কেউই কোনো আর্থিক পারিশ্রমিক নিচ্ছেন না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা গ্লোবাল সিটিজেন-এর সামাজিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিজেদের সময় ও পারফরম্যান্স উৎসর্গ করেছেন। আর্থিক লাভের চেয়ে বরং এই বৈশ্বিক মঞ্চকে তারা বিশ্বজুড়ে একটি মানবিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই প্রক্রিয়াটি যুক্তরাষ্ট্রের সুপার বোল হাফটাইম শোর একটি প্রচলিত রীতির মতোই। সুপার বোলেও সাধারণত আমন্ত্রিত শিল্পীরা পারফরম্যান্সের জন্য আলাদা কোনো ফি পান না। এর পরিবর্তে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের সামনে সরাসরি পারফর্ম করে নিজেদের ব্র্যান্ড ভ্যালু ও জনপ্রিয়তা বহুগুণ বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পান তারা।
ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ ফাইনাল বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৪২ কোটি (১.৪২ বিলিয়ন) দর্শক উপভোগ করেছিলেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এবারের হাফটাইম শোটিও বিশ্বের সবচেয়ে বড় দর্শকসমাগমের অন্যতম একটি অনন্য মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
বিশ্বখ্যাত কোল্ডপ্লে ব্যান্ডের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিনের পরিচালনায় এই আকর্ষণীয় হাফটাইম শোটি অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজন সম্পর্কে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, শাকিরা, ম্যাডোনা ও বিটিএস-এর সংগীত সীমানা ও প্রজন্মের গণ্ডি অতিক্রম করে। এই বিশেষ আয়োজনটি মূলত ফুটবল, ঐক্য ও মানবতার এক অনন্য উদযাপন।
এসআর