২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ট্রফি জয়ের পেছনে অন্যতম বড় রূপকার ছিলেন
অভিজ্ঞ উইঙ্গার আনহেল দি মারিয়া। ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালের রোমাঞ্চকর মঞ্চে গোল করে রূপকথার গল্প লিখেছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা শিরোপা জয়ের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোয় এবারের বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে ছিলেন না ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা। তবে মাঠের বাইরে থাকলেও মানসিকভাবে প্রতিটি মুহূর্তে জাতীয় দলের সঙ্গেই ছিলেন তিনি।
জাতীয় দল বর্তমানে অসংখ্য সাফল্য ও ট্রফি অর্জন করলেও সেটিকে কেবল সামান্য করতালি দিয়ে পরিমাপ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দি মারিয়া। সদ্য সমাপ্ত টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল জয়কেই চলতি আসরের সবচেয়ে আবেগঘন ও সেরা মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
আর্জেন্টাইন ঘরোয়া লিগে বেলগ্রানোর কাছে রোজারিও সেন্ত্রালের ২-১ ব্যবধানে পরাজয়ের পর 'টিএনটি স্পোর্টস'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দি মারিয়া তাঁর প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “আমার মতে, ইংল্যান্ডকে হারানোর দিনই বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমরা দেশের মানুষকে সবচেয়ে বড় আনন্দের মুহূর্তটি দিতে পেরেছি। বিষয়টি সবাই উপলব্ধি করেছে এবং এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত করেছে। দেশের মানুষের এই ভালোবাসার কাছে আমি চিরঋণী।”
বর্তমানে ৩৮ বছর বয়সে পদার্পণ করা এই তারকা উইঙ্গার জানান, পুরো টুর্নামেন্টে হাজার মাইল দূরে অবস্থান করলেও তিনি মানসিক ও আবেগগতভাবে দলের প্রতিটি লড়াইয়ের অংশ ছিলেন। বিশেষ করে ফাইনাল ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনের কাছে পরাজয় সত্ত্বেও সতীর্থদের লড়াকু মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
দি মারিয়া আরও যুক্ত করেন, “মাঠের বাইরে প্রতিটি ম্যাচে আমিও ওদের মতো মানসিকভাবে কষ্ট পেয়েছি। তবে ছেলেরা নিজেদের ভেতর থেকে এমন এক অদৃশ্য শক্তি বের করে এনেছিল, যা তাদের জয়ের পথ দেখিয়েছে। ফুটবলে কখনো আপনি ফাইনালে জিতবেন, আবার কখনো হেরে যাবেন। কিন্তু তারা বিশ্বমঞ্চে আকাশি-সাদা পতাকার সম্মান ও মর্যাদা উচ্চকিত করে রেখেছে।”
দলপতি লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দি মারিয়া তাঁর দীর্ঘদিনের সতীর্থের পাশে দাঁড়ান। তিনি চান মেসি নিজের ইচ্ছানুযায়ী আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলে যান। দি মারিয়ার মতে, “লিও যতদিন স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, ততদিন খেলা চালিয়ে যাওয়া উচিত। আমার বিশ্বাস, ও আরও বহু বছর এভাবে খেলে যেতে পারবে। ৩৯ বছর বয়সে এসেও সে প্রমাণ করেছে যে, সে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। মেসির দক্ষতার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।”
উল্লেখ্য, আনহেল দি মারিয়া আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা নৈপথ্য নায়ক। ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিক ফুটবলে সোনা জয়ের ফাইনালে তাঁর গোলটিই ছিল জয়সূচক। এরপর ২০২১ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে এবং ২০২২ সালের ফিনালিসিমায় তাঁর পায়ের জাদুকরী গোলেই জয়ের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। অবশেষে ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে এক বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন তিনি।
এসআর