[email protected] মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

আক্ষেপ ভক্তদের: ‘মেসি জিতলে আনন্দ হতো সারা বিশ্বে’

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬ ৯:৩২ এএম

সংগৃহীত ছবি

নিউজার্সি স্টেডিয়াম থেকে একে একে যখন আর্জেন্টাইন সমর্থকরা বের হয়ে আসছিলেন,

 তখন সবার মুখেই ছিল বিষাদের স্পষ্ট ছাপ। কেউ দ্রুত স্টেডিয়াম ছাড়ার তাড়ায় ছিলেন, আবার স্বল্পসংখ্যক রসিক সমর্থক দাঁড়িয়ে দেখছিলেন স্প্যানিশদের উল্লাসের দৃশ্য। এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সমর্থকরাই ছিলেন সবচেয়ে বেশি প্রাণবন্ত। প্রতিটি ভেন্যুতেই প্রতিপক্ষের তুলনায় তাদের উপস্থিতি ছিল প্রায় দ্বিগুণ। যারা মাঠে যেতে পারেননি, তারা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহরের রাস্তায় ও জমায়েতে প্রিয় দলকে সমর্থন জুগিয়েছেন এবং প্রতিটি জয়ের পর পুরো ভেন্যু ও শহর মাতিয়ে তুলেছেন।

​বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের দিনও নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ার ছিল আর্জেন্টাইন সমর্থকদের দখলে। ফাইনালের চিত্রটা ভিন্ন হলে আজ নিউজার্সি স্টেডিয়ামসহ পুরো নিউইয়র্ক জুড়েই চলত উৎসবের জোয়ার। কিন্তু আর্জেন্টিনার হারে সেই আনন্দ রূপ নিয়েছে বিষাদে। মাঠের এই পারফরম্যান্স নিয়ে এক সমর্থক আক্ষেপ করে বলেন, "পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনাকে মেসিই টেনে নিয়ে গেছেন। ফাইনালে মেসি সেভাবে ছন্দ পাননি, যার প্রভাব পড়েছে ম্যাচে। আমরা জিততে পারিনি, তারপরও মেসিকে ধন্যবাদ। তিনি আমাদের গতবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছেন, এবারও ফাইনালে তুলেছেন।"

​আরেক সমর্থক বিজয়ী স্পেনকে অভিনন্দন জানিয়ে মেসির মাহাত্ম্য তুলে ধরে বলেন, "স্পেন ভালো খেলেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তবে স্পেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় উৎসব শুধু ওদেশেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আর মেসি যদি আজ চ্যাম্পিয়ন হতেন, তবে পুরো বিশ্ব সেই আনন্দ ও আমেজ পেত। এটাই হচ্ছে স্পেনের সাথে মেসির মূল পার্থক্য।"

​স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে বাংলাদেশি সাংবাদিকের পরিচয় পেয়ে এক আর্জেন্টাইন ভক্ত বাংলাদেশের বিপুল ফুটবল উন্মাদনা ও সমর্থনের কথা স্মরণ করে আফসোস করেন। তিনি বলেন, "আজ আর্জেন্টিনা জিতলে বাংলাদেশে নিশ্চয়ই অনেক বড় আনন্দ উৎসব হতো। আপনারা আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবেন, আমরা আবারও চ্যাম্পিয়ন হব।" সমর্থকদের মাঝে পরাজয়ের বিষণ্ণতা থাকলেও তারা বেশ সংযত ও বাস্তববাদী। আবেগে খুব বেশি আচ্ছন্ন না হয়ে দ্রুতই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার মানসিকতা দেখা গেছে তাদের মধ্যে। ফুটবলকে তারা ধর্মের মতো ভালোবাসলেও হার-জিতকে খেলার অংশ হিসেবেই দেখছেন, যা অনেক সময় বাংলাদেশ বা অন্যান্য দেশের মারামারি ও উগ্র সমর্থনের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র প্রকাশ করে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর