ওমানে ইতিহাস গড়ে এবার বীরের বেশে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২১ নারী হকি দল। আন্তর্জাতিক হকিতে দেশের প্রথম শিরোপা জয়ের গৌরব নিয়ে দেশে ফেরা স্বর্ণকন্যাদের বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনায় বরণ করে নেয় বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। তবে এই সাফল্যই শেষ নয়—এবার তাঁদের চোখ বিশ্বকাপের স্বপ্নে।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আরেকটি সোনালি অধ্যায়ের নাম এখন নারী হকি। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠিত উইমেন্স জুনিয়র এএইচএফ কাপ ২০২৬-এ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য প্রথম হকি শিরোপা জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ফাইনালে শক্তিশালী কাজাখস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে ট্রফি জয়ের পর শনিবার দেশে ফিরে রাজকীয় সংবর্ধনা পেয়েছেন তাঁরা।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর পুরো দলকে ফুলের মালা ও ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। দীর্ঘ সফর শেষে ক্লান্ত হলেও খেলোয়াড়দের মুখে ছিল গর্বের হাসি। হাতে ধরা ট্রফি আর বুকভরা আত্মবিশ্বাস যেন জানিয়ে দিচ্ছিল—বাংলাদেশের নারী হকির নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।
শিরোপাজয়ী দলকে উৎসাহিত করতে টি-স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং এস ডেভেলপার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইশতিয়াক সাদেক পুরো দলের ২৩ সদস্যের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ এবং একটি করে সুইট বক্স উপহার দেন। এমন সম্মান ও স্বীকৃতি পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন খেলোয়াড়রা।
মাস্কাটে পাঁচ জাতির এই আসরে শুরু থেকেই ছিল বাংলাদেশের একচ্ছত্র আধিপত্য। কোনো ম্যাচেই হারেনি দলটি।
পুরো টুর্নামেন্টে রিয়া, নিনি সেন রিমনসহ বাংলাদেশের তরুণীরা যে আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক হকি খেলেছেন, তা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়েছে। এই শিরোপা শুধু একটি ট্রফি নয়; এটি বাংলাদেশের নারী হকির জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এএইচএফ কাপ জয়ের সুবাদে বাংলাদেশ জায়গা করে নিয়েছে এশিয়া কাপের মূল পর্বে।
সেখানে ভারত, পাকিস্তান, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে লড়তে হবে বাংলাদেশের মেয়েদের। আর সেই পরীক্ষায় সফল হতে পারলেই খুলে যাবে বিশ্ব হকির সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলার দরজা।
দেশে ফেরার আনন্দের মধ্যেই নতুন লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছেন বাংলাদেশের স্বর্ণকন্যারা। আন্তর্জাতিক হকিতে প্রথম ট্রফি জয়ের ইতিহাস লেখা হয়েছে, এবার তাঁদের চোখ আরও বড় অর্জনে। এশিয়া কাপে নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে বিশ্বকাপের টিকিটও হাতছানি দিচ্ছে।
ওমানে লেখা ইতিহাস তাই কেবল একটি শিরোপা জয়ের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের নারী হকির নতুন যুগের সূচনা। বিমানবন্দরের ফুলেল অভ্যর্থনা সেই অর্জনের স্বীকৃতি, আর সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় স্বপ্ন—লাল-সবুজের পতাকা হাতে বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের মেয়েদের পদচারণা।
এসআর