বিশ্বকাপের মঞ্চে স্মরণীয় এক জয় পেয়েছে কানাডা। ভ্যানকুভারে নিজেদের সমর্থকদের সামনে কাতারকে ৬-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছে উত্তর আমেরিকার দলটি।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে প্রতিপক্ষের এক ট্যাকলের শিকার হন ২৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
ঘটনার পরপরই মাঠে তার যন্ত্রণাকাতর অবস্থা দেখে খেলোয়াড় ও দর্শকরা চোটের ভয়াবহতা আঁচ করতে পারেন।
চিকিৎসক দল দ্রুত মাঠে প্রবেশ করে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় এবং পরে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটার সময় কানাডা ম্যাচে স্বচ্ছন্দ লিডে ছিল। তবে সতীর্থের এমন অবস্থায় দলের খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
এরপরও তারা নিজেদের মনোযোগ ধরে রেখে ম্যাচ শেষ করে বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে।
ম্যাচ শেষে কানাডার কোচ জেসি মার্শ জানান, কোনের চোট বেশ গুরুতর এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অংশ হিসেবে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কোচের ভাষায়, কোনে দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তার অনুপস্থিতি শুধু বিশ্বকাপেই নয়, দলের সামগ্রিক পরিকল্পনায়ও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, কঠিন এই সময় কাটিয়ে ফুটবলারটি আবারও মাঠে ফিরবেন।
ম্যাচ চলাকালে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়ার সময় সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়িয়ে সাড়া দেন কোনে, যা উপস্থিত দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে।
পরে তার বদলি হিসেবে মাঠে নামা নাথান সালিবা গোল করার পর কোনের জার্সি প্রদর্শন করে সতীর্থের প্রতি সমর্থন জানান।
এদিকে চোটের জন্য দায়ী কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।
ম্যাচ শেষে তিনি কানাডার ড্রেসিংরুমে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান কোচ মার্শ।
তার মতে, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল বলে মনে হয়নি, যদিও ট্যাকলটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল।
ম্যাচে আরেকটি লাল কার্ডও দেখে কাতার। ফলে শেষ পর্যন্ত ৯ জনের দল নিয়েই খেলা শেষ করতে হয় তাদের।
অন্যদিকে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ এগিয়ে গেল কানাডা।
এসআর