চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করল সহ-আয়োজক মেক্সিকো।
শুক্রবার রাতে এস্তাদিও গুয়াদালাহারায় অনুষ্ঠিত 'গ্রুপ এ'-র ম্যাচে এশিয়ার পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। এই টানা দ্বিতীয় জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে শেষ বত্রিশের (Round of 32) খেলা নিশ্চিত করল মেক্সিকানরা।
ঘরের মাঠের চেনা গ্যালারিতে ম্যাচের ৫০তম মিনিটে মেক্সিকোর পক্ষে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লুইস রোমো। দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউর এক মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে এই গোলটি করেন তিনি।
ম্যাচের প্রথমার্ধের খেলাটি ছিল বেশ ধীরগতির ও ম্যাড়মেড়ে। দুই দলের কেউই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে তেমন কোনো জোরালো আক্রমণ শানাতে পারেনি। প্রথমার্ধের একমাত্র অন-টার্গেট শটটি আসে ২০তম মিনিটে, যখন মেক্সিকোর জুলিয়ান কুইনোনসের নেওয়া একটি হেড কোরিয়ান গোলরক্ষক সহজেই তালুবন্দি করেন। কোরিয়ান রক্ষণভাগের কড়া পাহারার কারণে প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আগ্রাসী রূপ ধারণ করে মেক্সিকো। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ। কুইনোনসের ক্রস থেকে রাউল হিমেনেসের নেওয়া একটি হেড কোরিয়ার ডিফেন্ডার ব্লক করলে বল শূন্যে ভেসে যায়। সেই সহজ ক্যাচটি লুফতে গিয়ে নিজেদের ডিফেন্ডার লি গি-হিউকের সাথে ধাক্কা খেয়ে বল হাত থেকে ফেলে দেন কোরিয়ান গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউ। একদম ফাঁকায় বল পেয়ে কোরিয়ার অরক্ষিত জালে ভলি শটে বল জড়িয়ে মেক্সিকোকে উল্লাসে ভাসান লুইস রোমো (১-০)।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচেই এক অনন্য কীর্তি গড়েন ৩১ বছর ১৩ দিন বয়সী রোমো। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষেই ৩৫ বছর বয়সে গোল করা রিকার্ডো পেলায়েসের পর রোমোই হলেন মেক্সিকোর ইতিহাসের দ্বিতীয় প্রবীণতম অভিষেক গোলদাতা। মজার ব্যাপার হলো, রোমো বর্তমানে স্থানীয় ক্লাব গুয়াদালাহারার হয়েই খেলেন এবং তাঁর চেনা ক্লাবের মাঠেই এই ঐতিহাসিক গোলটি পেলেন তিনি।
১ গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায় হং মিয়ুং-বোর দক্ষিণ কোরিয়া। ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল তারা। তবে মেক্সিকান গোলরক্ষক রাউল রাঙ্গেলের দুটি অবিশ্বাস্য 'ডাবল সেভ' কোরিয়াকে হতাশ করে। প্রথমে চো গুয়ে-সুং-এর একটি জোরালো হেড এবং ঠিক পরের মুহূর্তেই ইয়াং হিউন-জুনের নেওয়া ফিরতি হুক শট অত্যন্ত চমৎকার দক্ষতায় রুখে দিয়ে মেক্সিকোর জয় নিশ্চিত করেন রাঙ্গেল।
পুরো ম্যাচে আক্রমণের ধার কম থাকলেও মেক্সিকোর রক্ষণভাগ ছিল ইস্পাতকঠিন। এই ম্যাচের পর বিশ্বকাপে টানা ১৩ ম্যাচে প্রথমার্ধে কোনো গোল হজম না করার এক দুর্দান্ত রেকর্ড বজায় রাখল মেক্সিকো। ২০১০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের পর থেকে বিশ্বমঞ্চের প্রথমার্ধে মেক্সিকোর জাল কেউ কাঁপাতে পারেনি।
ইতিমধ্যেই গ্রুপ সেরা হয়ে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করায় মেক্সিকো এখন বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা তাদের মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, নকআউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রাখতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অন্তত ড্র বা জয়ের কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ কোরিয়া।
এসআর