দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বিশ্বকাপের মঞ্চে গোলের দেখা পায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১০ সালে নিজেদের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপের পর আর কোনো আসরেই গোল করতে পারেনি আফ্রিকার দেশটি।
অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে। তেবোহো মকোয়েনার গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে ইতিহাস গড়েছে বাফানা বাফানা।
শুধু একটি পয়েন্ট নয়, এই ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ছিল আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ারও গল্প। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দারুণ লড়াই করে ম্যাচে ফেরে তারা। আর শেষ পর্যন্ত মূল্যবান এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে চেক প্রজাতন্ত্র। তাদের দ্রুতগতির আক্রমণে বেশ চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগ। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটে সেই চাপের ফলও পেয়ে যায় ইউরোপের দলটি।
মাঝমাঠ থেকে আলেকজান্দর সোজকার নিখুঁত পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মিশাল সাদিলিক। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে নেওয়া তার শট জালে জড়িয়ে গেলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় চেক প্রজাতন্ত্র।
গোল হজমের পর কিছুটা সময় এলোমেলো ফুটবল খেলতে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে তারা। মাঝমাঠে তেবোহো মকোয়েনা ও স্পেপেলো সিথোলের নেতৃত্বে বলের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে থাকে আফ্রিকান দলটি।
প্রথমার্ধে কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় চেকরা।
বিরতির পর যেন নতুন রূপে মাঠে নামে হুগো ব্রুসের দল। আক্রমণের গতি বাড়িয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে তারা। ৫৫ মিনিটে স্ট্রাইকার এভিডেন্স মাকগোপার শক্তিশালী হেড গোলরক্ষক মাতেজ কোভার অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে না দিলে তখনই সমতায় ফিরতে পারত দক্ষিণ আফ্রিকা।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের দিকে টেনে নেয় বাফানা বাফানা। চেক রক্ষণভাগ তখন ব্যস্ত হয়ে পড়ে শুধু আক্রমণ ঠেকাতেই।
ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে ৮২ মিনিটে। দক্ষিণ আফ্রিকার আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের ডি-বক্সে হ্যান্ডবল করেন চেক ডিফেন্ডার পাভেল সুলচ। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।
স্টেডিয়ামজুড়ে তখন তুমুল উত্তেজনা। দক্ষিণ আফ্রিকার কোটি সমর্থকের আশা-ভরসা গিয়ে পড়ে তেবোহো মকোয়েনার কাঁধে।
৮৩ মিনিটে পেনাল্টি নিতে এসে কোনো ভুল করেননি তিনি। গোলরক্ষককে ভুল পথে পাঠিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন মকোয়েনা। সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বেঞ্চ ও গ্যালারিতে থাকা সমর্থকেরা।
এই গোল শুধু সমতা ফেরায়নি, বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ১৬ বছরের গোলখরাও ঘুচিয়েছে। ২০১০ সালের পর বিশ্বকাপের মঞ্চে এটিই তাদের প্রথম গোল।
গোলের পর দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। চেক প্রজাতন্ত্র কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ চালালেও দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ও গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
অন্যদিকে শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকাও পাল্টা আক্রমণে জয়সূচক গোলের চেষ্টা করে। তবে দুই দলের কেউই আর জালের দেখা পায়নি। ফলে ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।
এই ড্রয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা যেমন ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথম পয়েন্ট পেল, তেমনি চেক প্রজাতন্ত্রের জন্যও তৈরি হলো নতুন চাপ। টানা দুই ম্যাচে জয় না পাওয়ায় তাদের শেষ ম্যাচ এখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপে আবারও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে নতুন উদ্দীপনা পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মকোয়েনার ঐতিহাসিক গোল এবং পুরো দলের লড়াকু মানসিকতা পরবর্তী ম্যাচগুলোর আগে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে বাফানা বাফানাদের।
এসআর