উজবেকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত শুরু কলম্বিয়ার। মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কলম্বিয়ার হয়ে গোল করেন দানিয়েল মুনিওস, লুইস দিয়াজ এবং জামিন্টন কাম্পাজ।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দারুণ শুরু করেছে কলম্বিয়া। গ্রুপ ‘কে’-এর ম্যাচে বিশ্বকাপের নবাগত দল উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন কলম্বিয়ার অধিনায়ক হামেস রদ্রিগেস। জয়ের পর নিজের আবেগ লুকাতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। বিশ্বকাপের মঞ্চে জাতীয় সংগীতের সময় গ্যালারিভর্তি কলম্বিয়ান সমর্থকদের দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় চারপাশে এত মানুষকে দেখতে পাওয়া এবং বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এমন এক অনুভূতি, যা পৃথিবীর কোনো অর্থ দিয়ে কেনা সম্ভব নয়। এই মুহূর্তগুলোই একজন ফুটবলারের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
শুরু থেকেই আধিপত্য নিয়ে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে কলম্বিয়া। হামেস রদ্রিগেস মাঝমাঠ থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ করেন, আর সামনে লুইস দিয়াজ ও জন আরিয়াস বারবার উজবেকিস্তানের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করেন।
প্রথম গোল আসে দানিয়েল মুনিওসের পা থেকে। এরপর লিভারপুল তারকা লুইস দিয়াজ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দ্বিতীয়ার্ধে জামিন্টন কাম্পাজের গোল ম্যাচ প্রায় নিশ্চিত করে দেয়। শেষ দিকে একটি গোল শোধ দিলেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি উজবেকিস্তান।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজেদের ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের প্রমাণ আবারও দিল কলম্বিয়া। এখন তারা বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচ অপরাজিত। এর মধ্যে তিনটিতে জয় এবং একটিতে ড্র করেছে দলটি।
২০১৪ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে বিশ্বমঞ্চে কলম্বিয়ার পারফরম্যান্সও বেশ ধারাবাহিক। শেষ ১০টি বিশ্বকাপ ম্যাচে তারা জিতেছে ৭টি, ড্র করেছে ১টি এবং হেরেছে মাত্র ২টিতে।
জয়ের পর হামেস রদ্রিগেস বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে পরোক্ষভাবে অন্য কিছু শক্তিশালী দলকেও খোঁচা দেন।
তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ কখনোই সহজ নয়। অনেক বড় দলই তথাকথিত সহজ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় পায়নি। আমরা জানতাম শুরুটা ভালো করতে হবে এবং সেটাই করতে পেরেছি।”
হামেস আরও জানান, উজবেকিস্তানের রক্ষণভাগ ভাঙতে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কিছুটা নিচে নেমে খেলেছেন, যাতে সামনে থাকা সতীর্থরা ফাঁকা জায়গা কাজে লাগাতে পারেন।
পরাজিত হলেও নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে লড়াইয়ের ছাপ রেখেছে উজবেকিস্তান। বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচেই গোল করে ইতিহাস গড়েছে মধ্য এশিয়ার দেশটি।
এশিয়ার দেশগুলোর বিশ্বকাপ অভিষেকের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। তবুও প্রথম ম্যাচেই গোল করে উজবেকিস্তান দেখিয়ে দিয়েছে, তারা কেবল অংশ নিতে নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেও এসেছে।
উজবেকিস্তানের কোচ এবং ইতালির বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার ফ্যাবিও ক্যানাভারো ম্যাচ শেষে বলেন, বিশ্বকাপের চাপই তার খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে দেয়নি।
ক্যানাভারো বলেন, “এটি ছিল ছেলেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ। শুরুতে তারা অনেক নার্ভাস ছিল। প্রথমার্ধে আমরা নিজেদের খেলাটা খেলতে পারিনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে তারা সাহস দেখিয়েছে এবং সেটাই আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মেক্সিকোতে খেলছিলাম, কিন্তু স্টেডিয়ামের পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছিল কলম্বিয়ার মাঠে খেলছি। সমর্থকদের দারুণ সমর্থন তাদের খেলোয়াড়দের বাড়তি শক্তি দিয়েছে।”
গ্রুপ ‘কে’-এর অন্য ম্যাচে পর্তুগাল ও কঙ্গো ১-১ গোলে ড্র করায় পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে এসেছে কলম্বিয়া। ফলে পরবর্তী ম্যাচের আগে বেশ স্বস্তিতে রয়েছে হামেস রদ্রিগেসের দল।
অন্যদিকে বিশ্বকাপে টিকে থাকার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে উজবেকিস্তানকে। আর কলম্বিয়া চাইবে এই জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে শেষ ষোলোর পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে।
এসআর