[email protected] রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইউরোপে প্রথম জয়, তবু দলের মৌলিক ঘাটতি নিয়ে ডুলির সতর্কবার্তা

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ জুন ২০২৬ ৫:২৫ এএম

ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে প্রথম জয়ের ঐতিহাসিক আনন্দে ভাসছে বাংলাদেশ ফুটবল। নিজেদের মাঠে নয়, প্রতিপক্ষের ঘরে গিয়ে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে হামজা-শমিতরা।

ইউরোপ–জয়েও বাংলাদেশ দলের তিনটি ‘অসুখ’ ধরলেন ডুলি। তবে এই অর্জনের মধ্যেও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ টমাস ডুলি। বরং ম্যাচ–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে দলের বেশ কয়েকটি দুর্বলতার কথা স্পষ্টভাবেই তুলে ধরেছেন তিনি।

ডুলির মতে, জয় এলেও বাংলাদেশের খেলার মধ্যে এখনো এমন কিছু মৌলিক ঘাটতি রয়েছে, যা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে না পারলে ভবিষ্যতে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বড় মূল্য দিতে হতে পারে। বিশেষ করে ফিনিশিংয়ে অদক্ষতা, ফার্স্ট টাচ ও পাসিং-রিসিভিংয়ের দুর্বলতা এবং রক্ষণভাগ থেকে খেলা গড়ে তোলার সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে বল হারানো—এই তিনটি বিষয় তাঁর নজরে সবচেয়ে বেশি এসেছে।

বাংলাদেশ ম্যাচে একাধিক আক্রমণ তৈরি করলেও গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে আগের মতোই ভোগান্তি দেখা গেছে। এ নিয়ে ডুলি বলেন, দলের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এখনো ফিনিশিং। তাঁর ভাষায়, একটি গোল করতে বাংলাদেশের অনেক বেশি সুযোগ তৈরি করতে হয়, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলে বড় সমস্যা। তুলনামূলক শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে এমন সুযোগ নষ্ট করলে ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

শুধু গোল করার ক্ষেত্রেই নয়, খেলোয়াড়দের মৌলিক কারিগরি দক্ষতা নিয়েও উদ্বিগ্ন কোচ। ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে প্রথম স্পর্শে বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং সহজ পাস গ্রহণে সমস্যা চোখে পড়েছে তাঁর। ডুলি মনে করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে এসব মৌলিক দক্ষতায় আরও ধারাবাহিকতা ও নিখুঁততা প্রয়োজন। এ কারণে অনুশীলনে পাসিং ও রিসিভিংয়ের মতো বেসিক বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

ডুলির উদ্বেগের আরেকটি বড় জায়গা ছিল রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণে ওঠার সময় বল হারানো। ম্যাচে কয়েকবার বাংলাদেশ নিজেদের অর্ধ থেকে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করতে গিয়ে সহজ পরিস্থিতিতেই বল প্রতিপক্ষের কাছে তুলে দিয়েছে। তাঁর মতে, এমন ভুল কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ মাঝমাঠ বা রক্ষণভাগে বল হারালে প্রতিপক্ষ দ্রুত পাল্টা আক্রমণের সুযোগ পেয়ে যায়, যা ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে।

বিশেষ করে সান মারিনোর মতো শারীরিক শক্তিনির্ভর দলের বিপক্ষে এ ধরনের ভুল আরও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল বলে মনে করেন বাংলাদেশ কোচ। তিনি জানান, ম্যাচের আগে থেকেই খেলোয়াড়দের এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। তবু কয়েকটি ক্ষেত্রে একই ধরনের ভুল হয়েছে, যা ভবিষ্যতে কমিয়ে আনতে হবে।

তবে এসব ত্রুটিকে স্থায়ী সমস্যা হিসেবে দেখছেন না ডুলি। তাঁর বিশ্বাস, দলের সঙ্গে সদ্য যোগ দেওয়া চার নতুন খেলোয়াড়ের কারণে বোঝাপড়ার কিছু ঘাটতি ছিল। পর্যাপ্ত সময় নিয়ে একসঙ্গে অনুশীলন করতে পারলে অনেক ভুলই স্বাভাবিকভাবে কমে আসবে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন এই জার্মান বংশোদ্ভূত কোচ। তাঁর মতে, উন্নতির জন্য শুধু মাঠের অনুশীলন নয়, খেলোয়াড়দের মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন। ডুলি মনে করেন, চিন্তাভাবনা বদলাতে পারলে অনুশীলনের ধরন বদলাবে, আর সেখান থেকেই পরিবর্তন আসবে দলের খেলার দর্শন ও শৈলীতে।

ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন আত্মবিশ্বাস এনে দিলেও ডুলির চোখে এটি কেবল শুরু। তাঁর লক্ষ্য শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, বরং এমন একটি দল গড়ে তোলা, যারা ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে। আর সে কারণেই ইউরোপে প্রথম জয়ের আনন্দের মাঝেও তিনি দলের দুর্বলতাগুলো সামনে এনে উন্নতির পথ দেখানোর চেষ্টা করছেন।

 

এসআর

সম্পর্কিত খবর