[email protected] শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তপুর জোড়া গোলে ইউরোপে বাংলাদেশের প্রথম জয়

মোঃ আলী আকবর রনী

প্রকাশিত: ৬ জুন ২০২৬ ১:৪৩ এএম

তপু বর্মণের জোড়া গোলে ইউরোপে বাংলাদেশের প্রথম জয় দিয়ে বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় রচিত হলো সেরাভাল্লেতে।

ইউরোপের মাটিতে নিজেদের প্রথম আন্তর্জাতিক জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। শুক্রবার রাতে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। দলের দুই গোলই এসেছে তাঁর পা থেকে। বিশেষ করে ম্যাচের ৮৬ মিনিটে করা তাঁর দ্বিতীয় গোলটি এনে দিয়েছে ঐতিহাসিক এই জয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। বলের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ—দুই ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল সফরকারীরা। সেই চাপের ফল আসে ১৯ মিনিটে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তপু বর্মণ।

গোল খাওয়ার পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা বাড়ায় সান মারিনো। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে কয়েকটি আক্রমণও শানায় তারা। শেষ পর্যন্ত ৩১ মিনিটে নিকোলাস জিয়াকোপেত্তির গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। এরপর দুই দলই আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও বিরতির আগে আর গোল হয়নি।

১-১ সমতা নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে দুই দল। ম্যাচের গতি কিছুটা কমে এলেও লড়াই ছিল সমানে সমান। মাঝমাঠে বলের দখল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলেছে দীর্ঘ সময়। দুই কোচই একাধিক পরিবর্তন এনে ম্যাচের চিত্র বদলানোর চেষ্টা করেন।

ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখনই আবার সামনে আসেন তপু বর্মণ। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে জালে বল পাঠান তিনি। তাঁর সেই গোলেই আবারও এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

শেষ কয়েক মিনিটে সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় সান মারিনো। তবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ দৃঢ়তা দেখায়। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

এই জয় শুধু একটি প্রীতি ম্যাচের জয় নয়, বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসেও এর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। ইউরোপের মাটিতে এটাই বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক জয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি সাফল্যের অপেক্ষায় ছিল দেশের ফুটবল।

ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলির অধীনে প্রথম ম্যাচ। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম পরীক্ষাতেই জয় পেলেন জার্মান-আমেরিকান এই কোচ। ফলে সামনে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের প্রস্তুতিতে বাড়তি আত্মবিশ্বাস পেল বাংলাদেশ দল।

সর্বশেষ ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১তম। অন্যদিকে সান মারিনো রয়েছে ২১১ নম্বরে। র‍্যাঙ্কিংয়ের পার্থক্য থাকলেও ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ছিল ইতিহাস গড়ার উপলক্ষ। আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রে নাম লিখিয়েছেন তপু বর্মণ।

সেরাভাল্লের রাতটি তাই বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের কাছে অনেক দিন মনে রাখার মতো একটি রাত হয়ে থাকবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর