[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসলামে ট্যাটু বা উল্কি আঁকার বিধান ও শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:১৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা পুরোপুরি হারাম ও কবিরা গুনাহ।

 রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একাধিক হাদিসে এ বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং অভিসম্পাত এসেছে।

​ট্যাটু বা উল্কি বিষয়ে হাদিসের নির্দেশনা

হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) শরীরে উল্কি অঙ্কন করতে সরাসরি নিষেধ করেছেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৪০৮)। এছাড়া হজরত আবু জুহাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য এক হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) উল্কি অঙ্কনকারিনী, উল্কি গ্রহণকারিনী এবং সুদগ্রহীতা ও সুদদাতার ওপর অভিসম্পাত করেছেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩৪৭)।

​অজু ও গোসলের ওপর প্রভাব

শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকার কারণে যে প্রলেপ বা আবরণ তৈরি হয়, তা সাধারণত অজু ও গোসলের সময় ত্বকে পানি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে। যদি উল্কির কারণে চামড়ায় পানি না পৌঁছায়, তবে অজু ও গোসল শুদ্ধ হবে না। ফলে যতদিন ট্যাটু থাকবে, ততদিন অজু ও গোসল কার্যকর হবে না। তবে যদি পানি পৌঁছাতে কোনো বাধা না থাকে, তাহলে অজু-গোসল হয়ে যাবে; যদিও উল্কি আঁকার অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অভিশপ্ত বলে গণ্য হবেন।

​প্রাণীর ছবি ও চিত্রাঙ্কন সম্পর্কিত বিধান

হজরত সাঈদ বিন আবুল হাসান (র.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কাছে এসে নিজেকে চিত্রকর পরিচয় দিয়ে চিত্রাঙ্কনের শরঈ বিধান জানতে চান। ইবনে আব্বাস (রা.) তাকে কাছে ডেকে নিয়ে মাথার ওপর হাত রেখে বলেন— আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, "সকল চিত্রকরই জাহান্নামে যাবে। আর তার অঙ্কিত প্রতিটি চিত্রের পরিবর্তে একটি করে জীবিত সত্তা বানিয়ে তাকে জাহান্নামে শাস্তি দেওয়া হবে।" এরপর ইবনে আব্বাস (রা.) পরামর্শ দেন, যদি ছবি আঁকতেই হয়, তবে গাছপালা বা অপ্রাণবাচক বস্তুর ছবি আঁকা যেতে পারে (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৬৬২)।

​পবিত্র কোরআনের আয়াত ও আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, "আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম কাঠামো দিয়ে" (সুরা তিন, আয়াত: ০৪)। অন্য আয়াতে শয়তানের চক্রান্ত সম্পর্কে বলা হয়েছে, "আর তারা আল্লাহর সৃষ্টির বিকৃতি করবেই" (সুরা নিসা, আয়াত: ১১৯)।

​আল্লাহ তাআলা আরও এরশাদ করেন, "তারা আল্লাহকে পরিত্যাগ করে শুধু নারীর আরাধনা করে এবং শুধু অবাধ্য শয়তানের পূজা করে, যার প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। শয়তান বলেছিল, আমি অবশ্যই আপনার বান্দাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে অবলম্বন করব। তাদের পথভ্রষ্ট করব, তাদের আশ্বাস দেব; তাদের পশুদের কান ছেদন করতে বলব এবং তাদের আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তন করতে আদেশ দেব। যে কেউ আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়" (সুরা নিসা, আয়াত: ১১৭-১১৯)।

এসআর

সম্পর্কিত খবর