ইসলামে পবিত্রতার বিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় সালাম দেওয়া, হাদিসের বই পড়া এবং আল্লাহর জিকির করার মতো কাজ করা যায়। তবে কোরআন তিলাওয়াত ও কোরআন স্পর্শের ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।
যে কাজগুলো করা নিষিদ্ধ
ফরজ গোসল আদায় না করা পর্যন্ত পাঁচটি কাজ থেকে বিরত থাকতে হয়। সেগুলো হলো—
নামাজ আদায় করা
কাবা শরিফ তাওয়াফ করা
মসজিদে অবস্থান করা
পবিত্র কোরআন স্পর্শ করা
কোরআন তিলাওয়াত করা
অর্থাৎ, এসব কাজ ছাড়া সাধারণ অন্যান্য বৈধ কাজ করার ক্ষেত্রে গোসল ফরজ থাকার কারণে আলাদা নিষেধাজ্ঞা নেই।
হাদিসে এসেছে, ঋতুবতী নারী ও জুনুব ব্যক্তি কোরআন তিলাওয়াত করবে না। এ বিষয়ে তিরমিজি (হাদিস ১৩১) ও ইবনু মাজাহতে (হাদিস ৫৯৫) বর্ণনা রয়েছে।
সালাম ও হাদিসের বই পড়া যাবে
কারও ওপর গোসল ফরজ থাকলেও অন্যকে সালাম দেওয়া বৈধ। এতে শরিয়তবিরোধী কিছু নেই। একইভাবে হাদিস বা ইসলামী জ্ঞানবিষয়ক বই পড়াও যায়।
তবে কোনো হাদিসের বইয়ে কোরআনের আয়াত থাকলে তা স্পর্শ ও পাঠের ক্ষেত্রে কোরআনের বিধান প্রযোজ্য হবে। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
আল্লাহর জিকির করা বৈধ
গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় আল্লাহর জিকির করা যায়। ইমাম জুহরি (রহ.)-এর কাছেও এ বিষয়ে মত পাওয়া যায়।
মা‘মার (রহ.) তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যার ওপর গোসল ফরজ হয়েছে, সে আল্লাহর জিকির করতে পারবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, পারবে। তবে কোরআন তিলাওয়াতের বিষয়ে তিনি অনুমতি দেননি। এ বক্তব্য মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাকে বর্ণিত হয়েছে।
ইবরাহিম নাখঈ (রহ.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, গোসল ফরজ থাকা ব্যক্তির জন্য আল্লাহর জিকির ও বিসমিল্লাহ পাঠ করা বৈধ।
গোসল করতে অযথা দেরি নয়
গোসল ফরজ হওয়ার পর অকারণে দীর্ঘ সময় অপবিত্র অবস্থায় থাকা সমীচীন নয়। সুযোগ পাওয়া মাত্র গোসল করে পবিত্র হয়ে নেওয়া উত্তম।্
তবে গোসল ফরজ হওয়ার পর কিছু সময় বিলম্ব করলেই তা গুনাহ হিসেবে গণ্য হবে—এমন নয়। যদি গোসল বিলম্বের কারণে নামাজের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়, জামাত ছুটে যায় কিংবা কোনো ফরজ বা ওয়াজিব আমল বাদ পড়ে, তখন বিষয়টি গুরুতর হয়ে যায়।
কোনো কারণে গোসল করতে কিছুটা সময় লাগলে, এর মধ্যে অজু করে নেওয়াকে উত্তম বলা হয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর একটি হাদিস থেকেও জানা যায়, অপবিত্র অবস্থায় থাকা মানে মুমিন ব্যক্তি নিজে অপবিত্র হয়ে যায়—এমন নয়। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত ওই ঘটনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন।
তাই গোসল ফরজ হওয়ার অবস্থাকে নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে শরিয়তের নির্ধারিত বিধান মেনে চলা উচিত। একই সঙ্গে নামাজ বা অন্য কোনো ফরজ ইবাদতের সময় যেন অতিক্রম না হয়, সেদিকেও বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
এসআর